দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় মা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্থানীয় ঠিকাদার মো. ফারুক আহমেদ, যিনি তৎকালীন সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈ সিং–এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়দের দাবি।
কিন্তু নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন কক্ষের দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং শ্রমিকরা দ্রুত প্লাস্টার দিয়ে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তৃতীয় তলার একটি কক্ষের বারান্দায় রেলিংয়ের ওপর প্রায় পাঁচ ইঞ্চি সরু গর্তও দেখা গেছে, যা নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এছাড়া সামান্য আঘাতেই ভবনের পলেস্তারা উঠে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার না করে নিম্নমানের বালি ও ইট ব্যবহার করা হয়েছে। তদারকি সংস্থা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্মাণের সময় ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ভবনটি টেকসই হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢালু জমিতে ভবনের ভিত্তি ও পাইলিং যথাযথভাবে করা হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করায় কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, অনিয়মের অভিযোগ তিনি সরাসরি মেনে নিতে না পারলেও নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী এড়াতে পারেন না।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাজাহান জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ঠিকাদার মো. ফারুক আহমেদ দাবি করেন, ব্লক দিয়ে নির্মিত ভবনে সামান্য ফাটল স্বাভাবিক বিষয়। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ বলেন, ভবনে ফাটলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এমন অবস্থা উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনগণের অর্থে নির্মাণাধীন ভবনে এ ধরনের ফাটল শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
আরো পড়ুন→গরু চোর চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন


