শৈক্যওয় মারমা, রোয়াংছড়ি
৭ জুলাই ২০২৬, ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫১৫২ জন

রোয়াংছড়িতে টানা বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা, দেবতাকুমে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

Copy Link

টানা দুই দিনের মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতে বান্দরবানেররোয়াংছড়ি উপজেলায় ব্যাপক পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে পাহাড়ের পাদদেশে ও ঢালু অংশে বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

​উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রোয়াংছড়ি সদর, তারাছা, আলেক্ষ্যং এবং নোয়াপতং ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে হাজারো পরিবার বসতি গড়ে তুলেছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তারাছা খাল, রগ্রইক্ষ্যং খাল ও নোয়াপতং খালের পানি বিপৎসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে খালসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আর্থিক সীমাবদ্ধতায় ঝুঁকি নিয়েই বসবাস <​স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,মূলত নিম্ন আয়ের কারণে তুলনামূলক কম দামে পাহাড়সংলগ্ন ঢালু জমি কিনে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছেন। ঝুঁকির বিষয়টি জানা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অন্য কোথাও গিয়ে থাকার সামর্থ্য তাদের নেই। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে।

বান্দরবান জেলার মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, “অতিরিক্ত পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ের ওপরের শক্ত মাটির স্তরটি সরে যায় এবং ভেতরের নরম অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে দ্রুত ভূমিক্ষয় হয়ে পাহাড়ে ফাটল ধরে। ভারী বর্ষণ হলে ওই ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করে পুরো মাটির স্তরকে আলগা করে দেয়, যা পরবর্তীতে পাহাড়ধসের রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা জানিয়েছেন, পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি বলেন:জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ৪টি ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘দেবতাকুম’-সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে মৌখিকভাবে সতর্কবার্তা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা

গর্জনিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডিরেক্টর বডির সভা অনুষ্ঠিত

নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল

বালাঘাটায় ২০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিলেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন

কে এস মং–এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য আবারও চট্টগ্রাম গেলো ১০০ রোগী

থানচিতে বিজিবির অভিযানে জেএসএস সদস্য আটক

নাইক্ষ্যংছড়িতে পাচারের সময় ১০ বার্মিজ গরু জব্দ

“রেংমিটচ্য” ভাষায় কথা বলা ৬ বক্তার একজন প্রয়াত,অসুস্থ ২

বান্দরবানের রুমায় পাইন্দু খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

১০

দায়িত্ব ছাড়তে বিলম্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পরাক্রম চাকমা

১১

১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পে বৃক্ষরোপণ

১২

যোগাযোগ ও উন্নয়নে পিছিয়ে বান্দরবানের পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি

১৩

‎বদলি আদেশ জারির পরও দায়িত্ব ছাড়েননি নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা

১৪

চকরিয়ায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজিবির মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

১৫

রুমার দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

১৬

আলীকদমে ত্রাণ নিতে আসা ১ হাজার পরিবারকে পরিবহন সুবিধাও দিলো খুইল্যা মিয়া ফাউন্ডেশন

১৭

শনিবার খুলছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা জারি

১৮

বিনামূল্য চক্ষু শিবির থেকে বাছাইকৃত ১০০ রোগীকে ২০ জুলাই পাঠানো হবে চট্টগ্রামে

১৯

রাঙামাটিতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ অনুষ্ঠানে এমপি দীপেন দেওয়ান

২০
error: Content is protected !!