টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধ্বস ও জলবদ্ধতায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
উপজেলার সদর,বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

টানা বৃষ্টিতে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর উপজেলার বিছামারা এলাকায় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর বাউন্ডারি দেয়ালের একাংশ পাহাড়ধসে ভেঙে পড়ে।
দেয়ালের ধ্বংসাবশেষ ও পাহাড়ের মাটি স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইসমাইলের বসতবাড়ির ওপর এসে পড়ে। এতে বাড়ির ব্যাপাক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে বিএলআরআইয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা নেন। ফলে তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসে।
এদিকে, গত ৬ জুলাই আদর্শ গ্রাম এলাকায় সড়কের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ এর লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে উপজেলা সদর এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্বিক সহযোগিতাই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এতে মোবাইল চার্জ, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ভোগান্তি বেড়ে যায়।
টানা বৃষ্টির কারণে রামু–নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার কয়েকটি বাড়িতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে।
সোনাইছড়ি ও দোছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও বাইশারী, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি খালের তীব্র স্রোতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভাঙনের ঘটনাও ঘটেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান বলেন, “এখন পর্যন্ত উপজেলায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং উপজেলা কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা এই প্রতিবেদককে জানান।
আরো পড়ুন→বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণে বন্যার আশঙ্কা, দুশ্চিন্তায় এইচ এস সি পরীক্ষার্থীরা
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন