বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার উপ–সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান উন্নয়নকাজের তদারকি নিয়মিত না করলেও কমিশনের ভাগ ঠিকই তার টেবিলে পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে উন্নয়নকাজের অনিয়ম ঢাকার দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও দাবি অনেকের।
সম্প্রতি বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যানপাড়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও স্থানীয় অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হলে নড়ে-চড়ে বসেন কাজটির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ–সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান।
প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০০ মিটার দীর্ঘ এইচবিবি (HBB) সড়কের কাজে প্রকৌশলগত মানদণ্ড সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে জানতে উপ–সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাজটি বিএনপি নেতা রাশেদ ভাই করছেন। আমি আগে নির্মাণকাজের স্থানে কখনও যাইনি। কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর আগ্রহের সঙ্গে গিয়ে দেখেছি, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। ঠিকাদার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয়রা তো আর সবকিছু বোঝে না। আপনার সন্দেহ থাকলে ল্যাব টেস্ট করান।”
গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সড়কটির বিভিন্ন অংশের ইট সলিং ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশল নকশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ বালি ব্যবহার না করে ইট বসানো হচ্ছে। এছাড়া সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত এল-ড্রেন (L-Drain)-এর কাজও অত্যন্ত নিম্নমানের করা হয়েছে।

পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর এলাকার মানুষ এই সড়কটি পেয়েছে। তবে পরিমাণ অনুযায়ী বালু দেওয়া হয়নি এবং ইট বসানোর কাজেও অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়া কাজ হওয়ায় সড়কটি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে তিনি নিজেও শঙ্কিত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মংচউ মারমা জানান, কাজের সময় কোনো প্রকৌশলীকে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়নি। রাস্তার প্রস্থও নকশার চেয়ে অনেক কম করা হয়েছে। এছাড়া সড়কটি টিকিয়ে রাখতে হলে অন্তত দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি ছিল, যা করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তার কাজ দেখে মনে হচ্ছে না এটি দীর্ঘদিন টিকবে। পাহাড়ি কাদামাটির ওপর প্রয়োজনীয় বালি ছাড়াই ইট বসানো হয়েছে। এই নিম্নমানের কাজের কারণে জনগণের অর্থ অপচয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মংক্যচিং মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি কাজ করছি, তদারকি করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। সাংবাদিকদের জবাব দিতে আমি বাধ্য নই। বিস্তারিত জানতে বিএনপি নেতা রাশেদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলুন।”
আরো পড়ুন→জনপদের নীরব সেবক–কে এস মং
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন