বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যান পাড়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬০০ মিটার দীর্ঘ এই ইট সলিং (এইচবিবি) সড়কের কাজে প্রকৌশলগত মানদণ্ড সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদারকিহীন এই “দায়সারা”কাজের কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয়ের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই সড়কটি সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ নেই। সড়কটির বিভিন্ন অংশের ইট সলিং ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৌশল নকশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণের বালি ব্যবহার না করে ইট বসানো হচ্ছে। এছাড়া সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত এল-ড্রেনের (L-Drain) কাজও অত্যন্ত নিম্নমানের করা হয়েছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, দীর্ঘদিন পর এলাকার মানুষ এই সড়কটি পেয়েছে। কিন্তু পরিমাণ অনুযায়ী বালু দেওয়া হয়নি এবং ইট বসানোর কাজেও অনেক ফাঁকফোকর রয়েছে। প্রকৌশলীর উপস্থিতি ছাড়া কাজ হওয়ায় সড়কটি কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমি নিজেও শঙ্কিত।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তার কাজ দেখে মনে হচ্ছে না এটি দীর্ঘদিন টিকবে। পাহাড়ি কাদামাটির ওপর প্রয়োজনীয় বালু ছাড়াই ইট বসানো হয়েছে। এই নিম্নমানের কাজের কারণে জনগণের অর্থ অপচয় হচ্ছে।
তারা আরও জানায় সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সঠিক তদারকি না থাকলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ কখনোই পাবে না। এটি আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ এখানে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের কেউ এসব দেখছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মংচউ মারমা জানান, কাজের সময় কোনো প্রকৌশলীকে প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়নি। রাস্তার প্রস্থও নকশার চেয়ে অনেক কম করা হয়েছে। এছাড়া সড়কটি টিকিয়ে রাখতে হলে অন্তত দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি ছিল,যা করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
নিয়মিত কাজ তদারকি হচ্ছে কিনা এবং কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে পার্বত্য জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি গতকাল গিয়ে পরিদর্শন করে এসেছি কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছেনা। স্থানীয়রা তো আর সব কিছু বুঝেনা আপনার সন্দেহ থাকলে আপনি ল্যাব টেস্ট করান।
এই বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মংক্যচিং মারমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি কাজ করছি তদারকী করার দায়িত্ব কতৃপক্ষের। সাংবাদিকদের জবাব দিতে আমি বাধ্য না এ পর্যন্ত অনেক সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে হয়েছে। বেশি কিছু জানতে চাইলে বিএনপি নেতা রাশেদ ভাইয়ের সাথে কথা বলেন।
একাধিক সূত্রের তথ্য মতে, ঠিকাদার মংক্যচিং মার্মা আগে আওয়ামিলীগ নেতা রাশেদ এর নাম ভাঙ্গিয় বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করে আসছিল বর্তমানে সব কাজে বিএনপি নেতা রাশেদ নাম ব্যবহার করেন তিনি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন