বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড় ধস, বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত, বাশারীর গর্জন খালের সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগে অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের মৌসুমি ফল ও কৃষি ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস ও ভারী বর্ষণে একাধিক পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রহমত উল্লাহ,
শফি উল্লাহ, মোহাম্মদ ইসমাইল, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং নুরুল ইসলাম।
এদিকে, বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের থুইলা অং পাড়ার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম গর্জন খালের ওপর নির্মিত সেতুটি বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রবল পানির স্রোতে ধসে পড়ে। এতে পাড়াটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং শত শত মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, বাইশারী গর্জন খালের সেতু ধসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে বাইশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে আপাতত মানুষের চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করতে বলা হয়েছে। খালের পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরো বলেন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত ৮ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৭৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাইশারী ও সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝেও জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন→থানচির সাথে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, আশ্রয়কেন্দ্রে নিম্নাঞ্চলের মানুষ
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন