বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের (কেএসআই) নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাঁর নিয়োগের খবরে বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনপ্রশাসন ও বৈদেশিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল বশিরুল ইসলাম।
সঙ্গীত শিল্পী চ থুই ফ্রু” নিয়োগের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষ নেতৃত্বে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক জর্জ ত্রিপুরা অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, বান্দরবান তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, সদা হাস্যোজ্জ্বল ও গুণী মানুষ চ থুই ফ্রু যোগ্য স্থানে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর এ নিয়োগে বান্দরবানের সব ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী ও গড়াইয়া শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দক্ষতায় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটসহ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
খেয়াং জনগোষ্ঠীর পরিচিত মুখ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষক নিঞ্যােজাই খেয়াং নতুন পরিচালককে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, জীবনের নতুন অধ্যায়ে কেএসআই বান্দরবানের পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, কেএসআইকে নতুন প্রাণে উজ্জীবিত করার শক্তি, সাহস ও যোগ্য নেতৃত্ব চথুই প্রু”র মধ্যে রয়েছে। নতুন দায়িত্বে তাঁর পথচলা সুন্দর ও সফল হোক বলেও কামনা করেন তিনি।
বান্দরবানের পরিচিত মুখ ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম মামুন অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও সজ্জন ব্যক্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসারকে কেএসআইয়ের পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় তিনি আনন্দিত।
নবনিযুক্ত পরিচালক চ থুই ফ্রু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বান্দরবান বাঙালিসহ ১৪টি জাতিসত্তার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ জনপদ।
তিনি বলেন, “বান্দরবানের ১১টি জাতিসত্তার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার এবং পাহাড়ের গৌরবময় সাংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, চ থুই ফ্রু”র অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রচারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন