পাহাড়ি জনপদ আলীকদমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বইছে উৎসবের আমেজ। আগামী (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবকে সামনে রেখে উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘আকাশপ্রদীপ’ বা ফানুস বানানোর জোর প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পানবাজার মালিপ্রু ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এখন কোমলমতি ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের ফানুস তৈরির ব্যস্ততা নজর কাড়ছে।
মালিপ্রু ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের ধর্মীয় শিক্ষা ক্লাসের তরুণ শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে নানা রঙের বাঁশের কঞ্চি, পাতলা রঙিন কাগজ, আঠা ও সুতা দিয়ে নান্দনিক আকৃতির ফানুস তৈরি করছে। প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে আকাশে ফানুস ওড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উৎসবের রাতে আকাশে উড়ানো এসব ফানুস বিশ্বশান্তি, জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল ও পাপমুক্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
উৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য ও প্রস্তুতি সম্পর্কে পানবাজার মালিপ্রু ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ জানান, “শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। তিন মাসের বর্ষাবাস (উপোস) ব্রত পালন শেষে এই প্রবারণা উৎসব উদযাপিত হয়। এতে আত্মশুদ্ধি, হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ এবং ঐক্য ও সহমর্মিতার বাণী ছড়িয়ে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “ফানুস উড়ানো কেবল বিনোদন নয়, এটি বুদ্ধের কেশধাতু পূজা এবং বিশ্বশান্তির প্রার্থনার এক পবিত্র মাধ্যম। আমাদের বিহারের শিক্ষার্থীরা পরম ভক্তি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে ফানুস তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
আশ্বিন মাসের শেষভাগে পাহাড়ের আকাশে ওড়ানো ফানুস দেখতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটে। বিহার পরিচালনা কমিটি সদস্য “নয়ন মনি তঞ্চঙ্গ্যা” পাহাড় কন্ঠ সংবাদ দাতা কে জানান যে, ২৬ অক্টোবরের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রভাতফেরি, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, সহস্র প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং রাতে জমকালো ফানুস ওড়ানোর নানা ধর্মীয় ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন