পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু, এমপি। তিনি বলেছেন, শুধু আগাম সতর্কবার্তা তৈরি করলেই হবে না, তা যেন দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো ও সহজ ভাষায় পৌঁছায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল আমারির ইডেন গার্ডেন বলরুমে ‘সুরক্ষা’ প্রকল্পের জাতীয় শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পাহাড়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। প্রকৃতির ক্ষতি না করে উপযুক্ত পদ্ধতিতে বনায়ন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউরোপীয় কমিশনের মানবিক সহায়তা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পার্বত্য অঞ্চলে তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেবামূলক কার্যক্রম জোরদারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, সুপেয় পানি ও টেকসই স্যানিটেশন এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের সুবিধা পৌঁছে দিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কিশোর ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্মার্টফোন ও অনলাইন খেলাধুলায় অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন