‘সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বান্দরবানে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের আওতায় ১২২ জন রোগীকে ফলোআপ ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে নতুন করে ছানি অপারেশনের জন্য ২৫ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বান্দরবান সদরের মধ্যমপাড়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মংয়ের কার্যালয়ে এ ফলোআপ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
বান্দরবানের দরিদ্র,অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পঞ্চম দফায় চট্টগ্রামে পাঠানো রোগীদের জন্য এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক উছোমং মার্মা জানান,ফলোআপ ক্যাম্পে মোট ১২২ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন অপারেশন পরবর্তী ফলোআপ সেবা, ৫৭ জন অন্যান্য চক্ষু চিকিৎসাসেবা এবং ২২ জন চশমাসংক্রান্ত সেবা পেয়েছেন। এ ছাড়া এসব রোগীর মধ্য থেকেই নতুন করে ছানি অপারেশনের জন্য ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,চোখের অপারেশনের পর নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ফলোআপ ক্যাম্পের মাধ্যমে রোগীরা নিজ এলাকায় থেকেই পরবর্তী চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মংয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহযোগিতায় এ চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাহাড়ি জনপদের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে এ ধরনের বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এর আগে বান্দরবানের দুর্গম রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলাতেও বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফলোআপ ক্যাম্পে নুঙেচিং মার্মা, প্রকৃতি বড়ুয়া ও সাংবাদিক বাবুল খাঁনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক দরিদ্র মানুষের জন্য আর্থিক অসচ্ছলতা ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা চক্ষু চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা। বিশেষ করে ছানি অপারেশনের জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়া এবং অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে অপারেশন, চিকিৎসা পরামর্শ, ওষুধ ও ফলোআপ সেবার ব্যবস্থা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বান্দরবানের আরও অসচ্ছল মানুষ চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আরো পড়ুন→আগামীকাল রাঙ্গামাটি সফরে আসছেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন