পাহাড় কন্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যখনই কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই কিছু সাহসী কণ্ঠস্বর অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমনই একজন আপোসহীন ও পথপ্রদর্শক সাংবাদিক হলেন হায়দার আলী। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নানাভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল, সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের কলমকে বিকিয়ে দেননি। দেশের ক্ষমতাশালী মন্ত্রী, এমপি এবং বড় বড় নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর ধারাবাহিক প্রতিবেদন দুর্নীতিবাজদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা শাসনামলে সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং প্রভাবশালী এমপিদের একাংশের বিরুদ্ধে যখন লুটপাট, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মহোৎসব চলছিল, তখন হায়দার আলী হয়ে উঠেছিলেন শোষিত মানুষের ভরসা।
ক্ষমতাশালীদের মুখোশ উন্মোচন: কোনো রক্তচক্ষু বা রাজনৈতিক চাপকে তোয়াক্কা না করে তিনি একের পর এক প্রভাবশালী নেতার দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর কারণে তৎকালীন অনেক দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা সবসময় তটস্থ থাকত। গণমাধ্যমে তাঁর একটি প্রতিবেদন মানেই ছিল দুর্নীতিবাজদের সাজানো সাম্রাজ্যে বড় ধাক্কা।
সত্য প্রকাশের পথ কখনোই মসৃণ হয় না, আর হায়দার আলীর ক্ষেত্রেও তা হয়নি। ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লেখার কারণে তাঁকে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রীয় ও দলীয় নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।
“একজন প্রকৃত সাংবাদিকের কোনো দল থাকে না, তাঁর একমাত্র দল হলো সত্য এবং সাধারণ মানুষ।”
তাঁর এই আপোসহীন নীতির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। শুধু আইনি হয়রানিই নয়, বিভিন্ন সময় স্বার্থান্বেষী মহলের নির্দেশে তাঁর ওপর শারীরিক হামলা ও প্রাণনাশের হুমকিও এসেছে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কাছে মাথা নত না করে তিনি তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দ বা আদর্শ থাকতেই পারে, যা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু হায়দার আলী কখনো তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দকে পেশাগত দায়িত্বের ওপর স্থান দেননি।
তিনি শুধু নিজেই লেখেননি, বরং সহকর্মী ও তরুণ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
দল-মত নির্বিশেষে যেখানেই অন্যায় দেখেছেন, সেখানেই তাঁর কলম গর্জে উঠেছে। আপোসহীন সাংবাদিকতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা সরকার বদল হলেও হায়দার আলীর মতো সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক আক্রমণ থামেনি। বর্তমানে একটি কুচক্রী মহল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে যারা তাঁর প্রতিবেদনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং যারা বর্তমান সময়েও নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তারাই মূলত হায়দার আলীকে দমিয়ে রাখার এই নোংরা অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাঁর সততা ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কোনো সাংবাদিক আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস না পায়।
হায়দার আলী কোনো ব্যক্তি মাত্র নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার একটি প্রতিষ্ঠান। কুচক্রী মহলের মিথ্যা তথ্য বা ষড়যন্ত্র দিয়ে তাঁর মতো একজন প্রথিতযশা সাংবাদিককে দমিয়ে রাখা যাবে না। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং সাংবাদিক মহলের দাবি—এই বীর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চলা সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটুক এবং মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। কারণ, হায়দার আলীরা দমে গেলে, দমে যাবে দেশের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন