বান্দরবান পার্বত্য জেলার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংকট, জনদুর্ভোগ ও নানা সীমাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চারটি পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বান্দরবানের বিভিন্ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এতে জেলার শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে বান্দরবান সরকারি কলেজ ও নার্সিং কলেজেও শিক্ষক সংকট প্রকট।
স্মারকলিপিতে বান্দরবান সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞানে দ্রুত স্নাতক (সম্মান) বা অনার্স কোর্স চালুর দাবি জানানো হয়। অনার্সের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর এইচএসসি পাস করা বহু মেধাবী শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য জেলার বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বাড়তি ব্যয় ও নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, বান্দরবান সদর হাসপাতালসহ রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য উপযোগী সচল অ্যাম্বুলেন্সেরও তীব্র সংকট রয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে সীমিত জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংকট নিরসনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা।
২. সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন করা।
৩. দুর্গম উপজেলাগুলোর জন্য ফোর-হুইল ড্রাইভ (৪WD) অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা।
৪. ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দ্রুত চালু করা।
৫. বান্দরবানে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও সমন্বিত মডেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হওয়ার কারণে বান্দরবানের মানুষ মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। জেলার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বান্দরবানকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সমান সুযোগের জেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
আরো পড়ুন→এসএসসি ফলাফলে ফারুক কোচিং হোম–এর বাজিমাত
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন