শিকড়ের গভীরতায় আমাদের পরিচয়, ঐতিহ্যের সৌন্দর্যে আমাদের অস্তিত্ব। ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা বেঁচে থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।”—এই দৃপ্ত অঙ্গীকার ও নিজস্ব জীবনবোধকে পাথেয় করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। প্রকৃতি, ঐতিহ্য এবং শতবর্ষী সংস্কৃতির ধারক-বাহক পাহাড়ে ও সমতলের আদিবাসীদের স্বকীয়তা ধরে রাখার আকুতি এই দিনটিকে করে তোলে আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা, পোশাক, লোকসংগীত, নৃত্য এবং উৎসব আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ ও বর্ণিল। তাঁদের জীবনব্যবস্থা কেবল টিকে থাকার সংগ্রাম নয়, বরং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে বাঁচার এক অনন্য শিল্প। নিজস্ব মাতৃভাষা ও মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে যুগের পর যুগ তাঁরা বহন করে চলছেন তাঁদের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে।
তবে আধুনিকতার আগ্রাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণের অভাব এবং মূলধারার সাথে ব্যবধানের কারণে ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর নিজস্ব সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে। ইতোমধ্যে অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব লিপি ও ভাষা চিরতরে হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রবীণ প্রজন্মের বিদায়ের সাথে সাথে অনুচ্চারিত থেকে যাচ্ছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুখে মুখে প্রচলিত অনেক গল্প ও গান।
আদিবাসী দিবসের মূল বার্তা হলো—ঐতিহ্যের এই আলো যেন শুধু অতীতে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভাষার মর্যাদা তুলে ধরা এবং তা চর্চার সুযোগ করে দেওয়াই এই দিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য।
শিকড়কে ভুলে কোনো সমাজ বা জাতি পূর্ণতা পেতে পারে না। পাহাড় ও সমতলের সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মৌলিক অধিকার, মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভ এবং নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করাই হোক আজকের দিনের মূল অঙ্গীকার। প্রকৃতির কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা এই মানুষগুলোর অধিকার ও স্বকীয়তা রক্ষা পেলে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্যে আরও সুন্দর হয়ে উঠবে আমাদের যৌথ ভবিষ্যৎ।
আরো পড়ুন→কে এস মং–এর উদ্যোগে ৫০ রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্যে চট্টগ্রামে প্রেরণ
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন