
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠনটিকে এবার পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী কাঠামোয় আনতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এই কমিটিকে ঘিরে রাজধানীর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও তৃণমূল পর্যায়ে মতামত সংগ্রহ।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবার শুধু পদ বণ্টন নয়; বরং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এসব বিষয়কে সামনে রেখেই নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের মধ্যেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠন সচল রেখেছেন, তাদের নামই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
২০২৩ সালের আগস্টে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে শরীফ উদ্দিন জুয়েলকে আহ্বায়ক এবং মনিরুল ইসলাম স্বপন, তসলিম আহসান মাসুম ও আবুল হাসান টিটুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এতে সদস্য সচিব করা হয় সাজ্জাদুল মিরাজকে। এরপর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-সমাবেশ, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এই নেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির ধারাবাহিক আন্দোলনের সময় মহানগর উত্তরে যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামো ধরে রাখতে তাদের ভূমিকা নিয়ে দলীয় অভ্যন্তরে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।
বর্তমানে উত্তর যুবদলের কমিটির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন, সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, এরপর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় যার নাম এসেছেন তিনি হলেন- তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি ও বর্তমান উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুম, মনিরুল ইসলাম স্বপন এবং আবুল হাসান টিটু ও আমিনুল ইসলাম। এছাড়া এস.এম মিজানুর রহমান রাজ রয়েছেন ব্যাপক আলোচনায়। রাজ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তসলিম আহসান মাসুম দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার সাংগঠনিক তৎপরতা ও তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের।
অন্যদিকে মনিরুল ইসলাম স্বপনকে দীর্ঘদিনের রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাজধানীতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি নিয়মিত ছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষ করে দমন-পীড়নের সময় মাঠে সক্রিয় থাকা এবং নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখায় তিনি তৃণমূলের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। আবুল হাসান টিটুকেও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে তিনিও সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছেন। দলীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার এমন কাউকে সভাপতি করতে চায়, যিনি একদিকে রাজপথের পরীক্ষিত, অন্যদিকে সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম। সেই বিবেচনায় এই তিন নেতার নাম এখন আলোচনার শীর্ষে।
এছাড়া এ পদে সব চেয়ে যোগ্য এবং নম্র, ভদ্র ও দায়িত্বশীল নেতা হলেন- আমিনুল ইসলাম। তাকে নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আমিনুল ইসলামের নাম। ছাত্রদল থেকে যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাকে ঘিরে এখন মহানগর উত্তর যুবদলের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় এগিয়ে যারা-
সাধারণ সম্পাদক পদেও চলছে জোর আলোচনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ও উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহ্ফুজ-উর-রহমান লিপকন।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে বিশেষ আলোচনায় রয়েছেন তিনি হলেন, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল উত্তরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে আনার ক্ষেত্রে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাদের গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই জায়গা থেকেই মাহ্ফুজ-উর-রহমান লিপকনের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো হলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার বিতর্কমুক্ত, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চান।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন, দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাংগঠনিক কাঠামো সচল রেখেছেন তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংগঠনের পুনর্গঠনের যে বার্তা দিচ্ছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরীক্ষিত ও পরিশ্রমী নেতাদের বিকল্প নেই।
এদিকে মহানগর উত্তর যুবদলের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর উত্তরের একাধিক থানা ও ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে এখন উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। কে হচ্ছেন সভাপতি, কে পাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের ওপর আস্থা রাখছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে বিশেষ আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক পদে আরেক জনের নাম সামনে এসেছেন তিনি হলেন, কামাল আহমেদ দুলু। দুলু উত্তর যুবদলের এই পদে বেশ আলোচিত। তিনি এর আগে রামপুরা থানা ছাত্রদল ও যুবদলের দায়িত্বশীল পদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব (সাধারণ সম্পাদক) সাজ্জাদুল মিরাজ জানিয়েছেন, ‘দল যেখানে মনে করবে সেখানে রাখবে। দলের উপর ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপর আমার আস্থা রয়েছে।’
জানতে চাইলে উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (সভাপতি প্রার্থী) তসলিম আহসান মাসুম জানান, ‘বিগত দিনে দলের পিছনে যে সময় দিয়েছি, দল সেখান থেকে সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে যদি, আমার উপর আস্থা রাখে তাহলে আশা করি দলীয় সিন্ধানের বাইরে আর কোনো কথা বলার সুযোগ নেই’। সর্বশেষ দলীয় সিধান্তই চুড়ান্ত হিসেবে মেনে নিবো।’
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি (যুবদলের প্রার্থী) সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘আমার কাছে সব চেয়ে বড় ব্যাপার হলো দল আমাকে মনে করছে উত্তর ছাত্রদলের দায়িত্ব দিয়েছে ঠিক তেমনটা দল যেটা মনে করবে সেটাই আমার কাছে সাংগঠনিক বড় সিধান্ত বলে মনে করি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন