ছোট ছোট গর্ত, খানাখন্দ আর দুর্ঘটনার শঙ্কা—রাঙামাটির তবলছড়ি–আসামবস্তি সড়কের এমন বেহাল চিত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির মধ্যে অবশেষে সাময়িক সংস্কারকাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দের কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা থেকে স্বর্ণটিলা কবরস্থান-সংলগ্ন সড়ক এবং আসামবস্তি নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পর্যন্ত অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ছিল বেশি।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রোগী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থা জনদুর্ভোগের পাশাপাশি নিরাপদ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবরোধ করেন সিএনজিচালক ও তবলছড়ি–আসামবস্তি এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রায় দেড় ঘণ্টার এ কর্মসূচিতে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত মেরামত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাঙামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার ও কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোকলেছুর রহমান। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে সংস্কারকাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাঁদের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবশেষে সড়কটির সাময়িক সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে কিছুটা স্বস্তির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকেরা। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিরাপদ হয় এবং শিক্ষার্থী, রোগী, পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন