বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের নন্দিরবিল–বানিয়ারছড়া সড়কের বদরটিলা এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ভয়াবহভাবে ধসে গিয়ে বিশাল গর্ত ও গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বদরটিলা এলাকার খাড়া পাহাড়ের একেবারে নিচে নির্মিত ব্রিজটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ভাঙা অংশে বিশাল গর্ত ও গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় ব্রিজটির সঙ্গে সড়কের সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেল, সিএনজি, পিকআপ, কৃষিপণ্যবাহী যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, নন্দিরবিল–বানিয়ারছড়া সড়কটি ফাইতং ইউনিয়নের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র চার মাস আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটিতে সংস্কার কাজ করেছিল। প্রকল্পের আওতায় জিও ব্যাগ দিয়ে মাটি ভরাট করা হলেও পাহাড়ি ঢলের পানির প্রবাহ নিচ দিয়ে চলমান থাকায় সেই ভরাটকৃত মাটি টেকেনি। বর্ষার শুরুতেই আবারও মাটি ধসে ব্রিজের দুই পাশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের মতে, এই স্থানে শুধু জিও ব্যাগ বা মাটি ভরাট করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পাহাড়ের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ঢলের পানির চাপ বিবেচনায় নিয়ে গভীর ভিত্তির ওপর তিন স্তরের শক্তিশালী গাইড ওয়াল (রিটেইনিং ওয়াল) নির্মাণের মাধ্যমে ব্রিজের উভয় পাশ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের ধসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবু হানিফ মুঠোফোনে বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে নিরাপত্তা ব্যারিকেড স্থাপন, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকৌশল পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, যেকোনো সময় একটি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
আরো পড়ুন→জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন এমপি দীপেন দেওয়ান
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন