
বান্দরবানের পার্শ্ববর্তী এলাকা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সর্ব-পূর্বে অবস্থিত পাহাড়ি ও বনাঞ্চল ঘেরা এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি ধোপাছড়ি ইউনিয়ন। এটি চট্টগ্রাম জেলার অত্যন্ত প্রাচীন একটি এলাকা হলেও ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে এখানকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
চন্দনাইশ উপজেলার একদম শেষ প্রান্তে এবং বান্দরবান সদরের কুহালং ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান। এটি মূলত পাহাড়ি বনাঞ্চল বেষ্টিত একটি গ্রাম্য এলাকা। এর কৌশলগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই একটি ইউনিয়নের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ৩টি ভিন্ন উপজেলার সীমানা। ধোপাছড়ির দক্ষিণ-পূর্বে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সদর উপজেলার অবস্থান। উত্তরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাহাড়ি বনাঞ্চল। উত্তর-পশ্চিমে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আংশিক সীমানা।

পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে চন্দনাইশ উপজেলার নিজস্ব অন্যান্য এলাকা দোহাজারী ও কাঞ্চনাবাদ।
রোমাঞ্চ বনাম দুর্গমতা পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ধোপাছড়ির যাতায়াত ব্যবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হলেও তা এখনো বেশ রোমাঞ্চকর এবং বর্ষাকালে চরম দুর্গম হয়ে ওঠে। চন্দনাইশ মূল ভূখণ্ডের সাথে এই ইউনিয়নের যোগাযোগের জন্য প্রধানত দুটি সড়কপথ এবং একটি ঐতিহ্যবাহী নৌপথ সচল রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান সড়ক। এটি চন্দনাইশ মূল ভূখণ্ডের সাথে ধোপাছড়িকে যুক্ত করার প্রধান সড়ক। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ খানহাট অংশ থেকে শুরু হয়ে সড়কটি ধোপাছড়ি হয়ে বান্দরবানে গিয়ে মিশেছে। এই পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং পাহাড়ি বাহন ‘চাঁদের গাড়ি’ (মাহিন্দ্রা বা জিপ) চলাচল করে।

ঐতিহ্যবাহী নৌপথ সড়কপথ চালুর আগে ধোপাছড়ি যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌপথ। এখনো এই পথটি বেশ জনপ্রিয়। চন্দনাইশের দোহাজারী বা সাতকানিয়া অংশ থেকে শঙ্খ নদী (সাঙ্গু নদী) পার হয়ে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে প্রায় ২ ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি দিয়ে ধোপাছড়িতে পৌঁছানো যেতো তখন। এখন আধুনিক ইঞ্জিন চালিত বোটের ব্যবহার বাড়ায় সময় অনেকটা কম লাগে।
এইদিকে বান্দরবান–ধোপাছড়ি সংযোগ সড়কের মাঝখানে খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা পালাবদল হলেও এই অবহেলিত জনপদের ভাগ্যোন্নয়ন হয়নি।
বান্দরবান সদর উপজেলার সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও, মূল বাজারের কাছে খালের ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ বা সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ধোপাচড়ি ইউনিয়নের পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সীমানায় বসবাসরত হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এই একটি ব্রিজের অভাবে থমকে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই খালের ওপর সেতু নির্মাণ এবং প্রধান সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বদলে যাবে চন্দনাইশের এই প্রাচীন জনপদ।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন