
দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ২০২৫ সালের শেষ দিকে বান্দরবানে শুরু হয় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার “পার্বত্য চট্টগ্রামে সমন্বিত ও টেকসই পৌর পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প”-এর কার্যক্রম। তবে প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের জন্য অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান পৌরসভার সড়কগুলো এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন সড়কের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী।

প্রতিদিন তীব্র যানজট, ধুলাবালি ও কাদার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। শহরের বালাঘাটা, কলাঘাটা, বনরূপা, নিউগুলশান ও হাসপাতাল সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে রাস্তাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাইপলাইন স্থাপনের পর সড়কগুলো যথাযথভাবে সংস্কার না করায় পুরো শহর এখন ধুলাবালিতে ছেয়ে গেছে। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে।

বন্যার পর বান্দরবান পৌরসভার উদ্যোগে কিছু কিছু স্থানে আংশিক মেরামত করা হলেও, দু-এক দিনের বৃষ্টিতেই সড়কগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা প্রকৃতি বড়ুয়া বলেন, “বান্দরবান বাজার থেকে কেচিংঘাটা এলাকা পর্যন্ত পুরো সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসিন্দা মোঃ জামি বলেন, “ বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বন বিভাগ, উন্নয়ন বোর্ড, সদর হাসপাতালের মতো গুরুরপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান যেখানে সেই সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ বেহাল। বৃষ্টি পড়লেই কাদায় ভরে যায় সড়কটি। পুরো সড়ক জুড়ে গর্তে ভরে আছে।
এই বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, পাইপলাইন স্থাপনের কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। একটি ধাপ শেষ হওয়ার পর আরেকটি ধাপ শুরু করার কারণে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি করতে হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে সড়ক সংস্কারের স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে। আপাতত বর্ষা মৌসুম বিবেচনায় রেখে কিছু আংশিক সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে বান্দরবান পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরে একযোগে একাধিক উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকায় এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে সড়কের এই সাময়িক বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত আংশিক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে এবং বর্ষা শেষ হওয়া মাত্রই সড়কগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার করা হবে।
আরো পড়ুন→আলীকদম সদর ইউপির আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পেলেন কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন