ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার চেষ্টার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ভাস্কর্যটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনঃস্থাপন এবং এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সংযোগ সড়কের বেদিতে জেলার কৃতী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্যের নির্মাণকাজ চলমান ছিল। কিন্তু কোনো ধরনের জনআলোচনা বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই জেলা প্রশাসন ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে। এতে স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেই ক্ষতি সংস্কার না করে প্রশাসনের উদ্যোগে ভাস্কর্যটি অপসারণ বা ভাঙার পদক্ষেপ নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
তারা বলেন, সরকার দুর্ঘটনা কমানোর স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেও এ বিষয়ে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি যথাস্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, লেখক রেহেনুমা আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী মো. নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. সামিনা লুৎফা, ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, গবেষক ড. ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও অধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, কাজল দেবনাথ, মনিন্দ্র কুমার নাথ, সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী পারভেজ হাসেম, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো সাদাব নুর, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী মিঠুন রাফসান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, অধিকারকর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, আদিবাসী অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা, অধিকারকর্মী ড. হানা শামস আহমেদ এবং সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ।
আরো পড়ুন→আলীকদমে অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়া বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে প্রশাসন
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন