বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সাক্লানপাড়ায় অতিবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ম্রো সম্প্রদায়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থীর একমাত্র এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালু করতে ইতিমধ্যে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম সাক্লানপাড়ার বাঁশ ও স্থানীয় উপকরণে তৈরি বিদ্যালয়টি পুরোপুরি ধসে পড়ে। ফলে এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষকদের মাধ্যমে জানতে পেরে তা প্রশাসনের নজরে আনেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সায়েদ বিন আব্দুল্লাহ জানান, ম্রো সম্প্রদায় দেশের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের শিক্ষা গ্রহণ এমনিতেই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল।
তথ্য পাওয়ার পরপরই উপজেলা সদর থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে দুর্গম ঝিরিপথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে বৈঠক করে পুনর্নির্মাণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেন।
আগের স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছুটা নিরাপদ স্থানে নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এতে ‘ট্রাইবাল মোটিফ’ রাখার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার জন্য আলাদা জায়গাও রাখা হচ্ছে। এছাড়া নতুন স্কুলে বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার ও বোর্ডসহ সব প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা হবে।
স্কুলটির পুনর্নির্মাণে দ্রুত অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিআর বরাদ্দের আওতায় ৮ টন চাল দেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অব্যবহৃত অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ১০ বান্ডেল (৩৪ মিমি) কালার টিন সরবরাহ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে আগের চেয়ে আরও উন্নত পরিবেশে ম্রো শিশুদের পাঠদান পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
আরো পড়ুন→কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট বন্ধ, হ্রদের পানির স্তর নেমেছে নিরাপদ পর্যায়ে
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন