বান্দরবানের রুমা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর বাস্তবায়নে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যায়ে গ্রামীন সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধিনে, উপজেলার পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় ১.৩ কিলোমিটার সড়কের চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মায়াধন কনস্ট্রাকশন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ মেহেদী এর বিরুদ্ধে ।
স্থানীয়দের অভিযোগ রাস্তার কাজে বালির পরিবর্তে মাটি ব্যাবহার ও নির্মাণ সামগ্রীর মান ঠিক না থাকায় বর্ষাকালে এই সড়কটিকে স্থানীয় জনসাধারণের মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে।এ ছাড়া এটি দীর্ঘদিন ব্যাবহার অনুপযোগী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে,গত ২৪শে ডিসেম্বর ২৪ এ গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় ১.৩ কাজটি শুরু হওয়ার পর ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫ এ কাজটি এলজিইডি কে বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও মূল সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে না পারায় জুন ২০২৬ সাল পর্যন্ত কাজের সময় বৃদ্ধি করা হয়। ৬ মাসে তড়িঘড়ি করে কাজটি শেষ করতে গিয়ে, মায়াধন কনস্ট্রাকশন এর নিয়োজিত ঠিকাদার,রাস্তার কাজে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি কেটে সেই মাটি দিয়েই কাজ চালিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, কাজে ঠিকাদারের অনিয়মের কারনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটি দেবে যাবার সম্ভাবনা আছে।
এদিকে রাস্তার কাজে পাহাড়ের মাটি ব্যাবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মায়াধন কনস্ট্রাকশন এর স্বত্বাধিকারী মায়াধন–এর বক্তব্যের জন্য মটোফুনে একাদিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি পরবর্তীতে মটোফানে লিখিত বার্তা পাঠালেও প্রতিবেদকের প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি ।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মায়াধন কনস্ট্রাকশন এর ঠিকাদার মেহেদীর সাথে যোগাযোগ করেও তার কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
কাজের অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, (এলজিইডি)–এর বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান–এর অফিসে একাধিক বার যাওয়া ও অফিসের সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেন নি। জনশ্রুতি রয়েছে তিনি সংবাদ কর্মীদের ফোন কল গ্রহণ করেন না।
চলমান কাজের অনিয়মের বিষয়ে,বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশল মোঃ পারভেজ সরওয়ার প্রতিবেদককে বলেন, চলমান রাস্তার কাজে পাহাড়ের মাটি কেটে তা ব্যাবহারের কথা শুনেছি,কাজের শতভাগ আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ হতে বুঝে নিবো, অনিয়মের বিষয়টি সরজমিনে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে,কোন ক্রমেই কাজ না করে কোন বিল প্রদান করা হবে না।
বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর সুত্রে জানানো হয় এ পর্যন্ত চলমান কাজের বিল বাবদ ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মায়াধন কনস্ট্রাকশন।
আরো পড়ুন→রাজধানীতে শুরু হচ্ছে পাহাড়ের বর্ণিল প্রাণের উৎসব ‘বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই-বিষু মেলা’


