পাহাড়ের দুর্গম এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য এবং ‘পাহাড় কণ্ঠ ডটকম’-এর উপদেষ্টা কে এস মং। দুর্গম এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে গত এক বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ ১৮ মে (সোমবার) উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান থেকে ৭ জন রোগীকে চট্টগ্রাম শেভরন আই হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টারে পাঠানো হয়। হাসপাতালটিতে এই ৭ জন রোগীর মধ্যে ৫ জনের চোখে সফলভাবে অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা হয় এবং বাকি ২ জনকে প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীরা এখন সুস্থ আছেন।
এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, “একজন মানুষ যদি নিজের চোখ দিয়ে এই সুন্দর পৃথিবী দেখতেই না পারে, তবে তার বেঁচে থাকাটাই যেন মূল্যহীন হয়ে পড়ে। এই উপলব্ধি থেকেই আমি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। পাহাড়ে চোখে ছানি পড়া বা অপারেশন প্রয়োজন—এমন প্রতিটি রোগীকে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে এই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উন্নত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসালয়ের অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে বহু মানুষ চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন। টাকার অভাবে অনেকেই সঠিক সময়ে চিকিৎসা করাতে পারেন না। এই সকল অসহায় রোগীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন কে এস মং।
তার লক্ষ্য—ধাপে ধাপে পাহাড়ের প্রতিটি প্রত্যন্ত এলাকায় এই বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। ইতোমধ্যে রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় সফলভাবে কাজ করার পর, অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও অনুরূপ ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনের জোরালো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াই দুষ্কর, সেখানে এমন মানবিক ও মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। কে এস মং-এর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষ।
আরো পড়ুন→এহসান মাহমুদ –এর ”আদিবাসী প্রেমিকার মুখ” কব্যগ্রন্তের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন