Mahabub Hassan Khan
২৬ এপ্রিল ২০২০, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৬৪০ জন

করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ

আগামী তিন মাস পর প্রতিদিন না খেয়ে মরবে ৩ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে দেড় কোটি মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। বছরের শেষে এ সংখ্যা ২৬ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গেল বছরের শেষের দিক থেকেই পঙ্গপালের হানায় পৃথিবীর ১০ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছিল জাতিসংঘ। এ বছরের শুরু থেকেই করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির গোটা বিশ্ব। লকডাউনের কারণে কয়েক গুণ বেড়েছে খাদ্য সঙ্কট। আগামী দুই তিন মাস পর পৃথিবীতে প্রতিদিন অন্তত ৩ লাখ মানুষ অনাহারে মারা যাওয়ার আশঙ্কা জাতিসংঘের।

আফ্রিকার ৬টি দেশে পঙ্গপালের হানায় ২ কোটি মানুষ খাদ্য সঙ্কটে রয়েছেন। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের একশোরও বেশি দেশে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে গোটা পৃথিবীতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই।

একজন বলেন, এমব্রোজ গেটিস, প্রকল্প পরিচালক, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, জাতিসংঘ আমরা পঙ্গপাল নির্মূলে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছি সেগুলো করোনাভাইরাসের কারণে হওয়া লকডাউনে আটকে আছে। তাই আমরা স্বল্প পরিসরে বিমানের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে, এটি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তাই এটি বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে যার পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না।

পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকলেও করোনার কারণে চলমান লকডাউনে সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ।

একজন বলেন, ট্রাক চালক লকডাউনের কারণে কেউ রাস্তায় বের হতে পারছে না। আমরা একটা সময় একটি ট্রিপের জন্য ৫ হাজার নাইজেরিয়ান টাকা খরচ করতাম। এখন ৩৫ হাজার খরচ করতে চাই। কিন্তু তাও সম্ভব হচ্ছে না।

জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, সারাবিশ্বে নতুন করে ৩ কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ২ কোটি মানুষকে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। আগামী ৩ মাসের মাথায় প্রতিদিন ৩ লাখ মানুষ সারা বিশ্বে খাদ্যের অভাবে মারা যাবেন। এ মৃত্যু করোনাভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত নয়।

পাকিস্তান, হংকংসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ অনলাইনে খাদ্যপণ্য সরবরাহ শুরু করেছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় পর্যন্ত নয়। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত বা স্বল্প আয়ের মানুষের অনলাইনে খাদ্য সংগ্রহ করার সামর্থ্য না থাকায় সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না মত বিশেষজ্ঞদের।

খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন, এই সংকটের সময় আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিক্রি অন্তত ৭৭ শতাংশ বাড়াতে চাই। এর জন্য আমরা অনলাইনে বিক্রয় আদেশ গ্রহণ এবং মানুষের দরজায় পণ্য পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেছি।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

থানচিতে চাইল্ড জার্নালিস্ট গ্রুপের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বান্দরবানে চাঁদাবাজি অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা হাসান–কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নিজের খোঁজে………

টিকে থাকার নামই বিশ্বাস

দেশব্যাপী মাজারে হামলার ঘটনার পরিতবাদে রাঙামাটিতে মানবন্ধন

নাইক্ষ্যংছড়িতে চোরাচালান দমনে সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ’ নবাগত ইউএনও’র

কে এস মং-এর উদ্যোগে চট্টগ্রামে চিকিৎসা পেয়ে চোখ ভালো হলো ৭ রোগীর

এহসান মাহমুদ –এর ”আদিবাসী প্রেমিকার মুখ” কব্যগ্রন্তের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের প্রতিবাদে পিসিসিপির ক্ষোভ ও নিন্দা

১০

প্রয়াত শন সূচী চাকমার সাপ্তাহিক ক্রিয়া অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং

১১

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনার কেন্দ্রে সজল-জ্যাকি

১২

বাঘমারা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি কে এস মং-এর গভীর সমবেদনা

১৩

হাটহাজারীতে দৈনিক সাঙ্গুর সাংবাদিক জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা

১৪

বান্দরবানে ভোররাতে আগুনে পুড়ে ছাই দোকান ও বসতঘর

১৫

আরণ্যক এর আত্মকথা

১৬

লোগো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু ব্লাইন্ড ক্রিকেট এশিয়া কাপের কাউন্টডাউন

১৭

অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি চালকদের ডাটাবেস উদ্বোধন করেন পার্বত্য মন্ত্রী

১৮

রাঙ্গামাটিতে চাকমা কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকায় পিসিপির বিক্ষোভ

১৯

জীবনের জটিল আবর্ত

২০
error: Content is protected !!