নিজস্ব প্রতিবেদক
সংরক্ষিত বনের গাছ লুট করছে চোরাকারবারিরা। চাঁদা নিয়ে চুপ থাকছে বন বিভাগের দায়িত্বশীলরা। শুধু বন বিভাগই নয়, বন লুটের চাঁদার ভাগ যাচ্ছে প্রশাসনের কাছেও। রাতের আঁধারে সবাই মিলেমিশে বন ধ্বংসের মহোৎসবে মেতেছে। গত দুই বছর ধরে বান্দরবানের বিভিন্ন জায়গায় বনের গাছ দেদার লুট করা হয়েছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চোরাকারবারিদের সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ। ঘুষ নিয়ে অতিরিক্ত জোত পারমিট দেওয়া, অবৈধ পরিবহন পারমিট (টিপি) দেওয়া, চেকপোস্ট ও ইটভাটা থেকে বন বিভাগের চাঁদাবাজি, পরিবহনের আড়ালে কাঠ পাচারে ঘুষ নেওয়া সবই করছে বন বিভাগ। সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে প্রশাসন। মাস শেষে বন লুটের চাঁদার ভাগ পৌঁছে যাচ্ছে সবার পকেটে।
থানচি-আলীকদম সড়কের সাড়ে ২৩ কিলোমিটার আর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের তৈন রেঞ্জের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাংগু মৌজা। এখানকার পামিয়া ম্রোপাড়া, তন্তুইপাড়া, নামচাকপাড়া, কাকইপাড়া, আদুইপাড়াসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ২০০ একরজুড়ে দুই বছর ধরে বন উজাড় হয়েছে। করই, চাপালিশ, গুলগুইট্টা, গামারিসহ অনেক গাছ কাটা হয়েছে অথচ বন বিভাগ প্রশাসন নিশ্চুপ। গাছ পরিবহন করতে পাহাড় কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। সেই রাস্তা দিয়ে দিনরাত গুঁড়ি করা গাছ টেনে আলীকদমে নেওয়া হয়েছে। শুধু আলীকদম উপজেলার তৈন রেঞ্জ ও চৈক্ষ্যং রেঞ্জে ৫ হাজার ৭০০ একর বনভূমিতে ‘জোত পারমিট’ বৈধতার নাম দিয়ে চলেছে এসব গাছ লুট।
এছাড়া জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার আলিংখ্যান মৌজায় অবস্থিত পাইন্দু রেঞ্জও রক্ষা পায়নি। এসব গাছ স’মিল থেকে পাচার উপযোগী কাঠ করে পরিবহনে পাঠানো হয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। গত ১১ মে সোমবার বিকেল ৩টা। পরিচয় গোপন করে বান্দরবনের এক পরিবহনকর্মীর সঙ্গে কথা হয়। প্রথমে একটি কাঠের খাট বান্দরবন থেকে কুমিল্লায় পাঠাতে কত টাকা খরচ হবে জানতে চাওয়া হয়। ওই পরিবহনকর্মীর জবাব ‘একটি খাট বান্দরবান থেকে কুমিল্লা নিতে খরচ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। আরো ২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে।’ অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ টাকা কেন দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বন বিভাগের চাঁদা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া লাগে। এছাড়া এ খাট যাবে না, আটকে দিবে। আপনি বৈধ কাঠ নিয়ে গেলেও এ টাকা দিতে হবে।’
পার্বত্যাঞ্চলে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চল, সৃজিত সংরক্ষিত বনাঞ্চল (প্রটেক্টেড ফরেস্ট) ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল (ইউএসএফ)Ñ এ তিন শ্রেণির বন রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানা জমি ও সরকারি অবকাঠামোর জন্য ব্যবহৃত জমি ছাড়া সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল বনভূমি। প্রশাসন ও বন বিভাগ বনভূমি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সম্মিলিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে। ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যক্তিমালিকানা বাগানের গাছ ছাড়া তিন শ্রেণির বনাঞ্চলের কোনো গাছ কাটা ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির বন-বাগানের গাছ ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনের জন্য অনুমতিপত্র বা জোত পারমিট দেয় বন বিভাগ। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ঘনফুট কাঠের জোত পারমিট দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, প্রতি ঘনফুটে ৭০ টাকা করে মাত্র ৬ মাসেই প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি ঘুষ আদায় করেন ডিএফও।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এ জোত পারমিট দেখিয়ে বনের গাছ পাচার করে পাচারকারীরা। চেকপোস্টে দেখানোর মাধ্যমে একাধিকবার গাছ পাচারের টিকিট এ জোত পারমিট। বন বিভাগ জোত পারমিট দিতে নেয় চড়া ঘুষ। কারণ যাদের বাগান নেই তারাও পায় জোত পারমিট। আবার অল্প বাগান থাকলেও বহুগুণ পারমিট দেওয়া হয়Ñ যাতে সংরক্ষিত বনের গাছ পাচার করে বন বিভাগকে ঘুষ দিতে পারে চোরাকারবারিরা। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সড়কে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে রয়েছে চেকপোস্ট।
চেকপোস্টে চেকিংয়ের আনুষ্ঠানিকতার নামে বন বিভাগ চাঁদা নেয়। বান্দরবানের আলীকদম-থানচি সীমান্তবর্তী এলাকা আলীকদম পান বাজারের বাসিন্দা মো. ইসমাইল প্রকাশ লাল ইসমাইল এবং তার সহযোগী লংলেইন ম্রো পাচারকারী চক্রের হোতা। এ ইসমাইলের কাছে থেকে ঘুষ নেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। সেখান থেকে চাঁদার ভাগ বান্দরবন বিভাগীয় কর্মকর্তা হয়ে ঢাকায়ও টাকার ভাগ পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু ইসমাইল নয়, প্রতি ব্যবসায়ীর কাছেই চাঁদা নেয় বন বিভাগ। এক জোত মালিক সমিতির নেতা বলেন, অতিরিক্ত ঘুষের কারণে অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে জোত পারমিট নিতে আগ্রহ হারাচ্ছে ফলেও সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।
প্রায় ১০ চেক স্টেশন থেকে বনের চাঁদাবাজি : বান্দরবানের কাঠ ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবসা করছেন। তিনি বন বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে জোত পারমিট সাধারণ মানুষের পাওয়ার কথা থাকলেও এটি মূলত ১০ জনের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। যারা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকার লেনদেন করে, তারাই এ সুবিধা পায়। বন বিভাগ ঘুষের বিনিময়ে বাগানের প্রকৃত গাছের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক অর্ডার) দেয়। ধরেন, জোত পারমিটের অধীন তার বাগানে ৩ হাজার সিএফটি গাছ আছে। এর বিপরীতে তাকে ৩০ হাজার সিএফটির অনুমতি দেয় বন বিভাগÑ যাতে বাকি ২৭ হাজার সিএফটি অন্য জায়গার বা অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা কাঠ পাচার করা যায়। পরে এ পারমিট দেখিয়ে বনের গাছ লুট করে ওই পারমিট চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেকোনো গাছ কাটলেই ধাপে ধাপে ঘুষ নেয় বন বিভাগ। একটি পারমিট বা ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার জন্য প্রতি সিএফটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নির্ধারণ করা আছে বন বিভাগের। শুরুতে টিপি নেওয়ার জন্য সাড়ে ৪ হাজার ডিএফওর নামে, এরপর গাড়িতে কাঠ বোঝাই করার সময় ১০ হাজার দিতে হয় লোড পয়েন্ট চার্জ হিসেবে। এরপর গাড়ি রাস্তায় ওঠার পর কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়ার নরবিলায় চেকপোস্টে ৩ হাজার, চট্টগ্রামের লোহাগড়ার ফদুয়া চেকপোস্টে ৩ হাজার ২০০, পটিয়ায় নার্সারি গেট ১ হাজার ৬০০ টাকা, চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজে কক্সবাজার উত্তর-দক্ষিণ দুই বিভাগের জন্য ১ হাজার ১০০ করে ২ হাজার ২০০ টাকা, ধুমঘাট ৩ হাজার ৮০০ টাকা স্টেশন চেক, কুমিল্লার শোয়াগাজিতে ৩ হাজার ২০০ টাকা, ঢাকায় ঢোকার পর ৩ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। এভাবে প্রতিটি ট্রাকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে হয় বন বিভাগকে। সূত্র বলছে, বন বিভাগের বাইরে রাস্তায় রাজনৈতিক দলের কর্মী, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগকে দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণে চাঁদা। বান্দরবন থেকে ঢাকায় একটি কাঠবোঝাই ট্রাক আসতে অন্তত ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া রাস্তায় যতগুলো থানা অতিক্রম করে সব থানায় চাঁদা দিয়েই ট্রাকের চাকা ঘুরে।
ইটভাটা, করাতকল থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি : অনুসন্ধানে জানা গেছে, লামা বন বিভাগের চাঁদার তালিকায় আছে ৩৬টি ইটভাটা। এসব ইটভাটায় জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চাঁদা তোলে বন বিভাগ। প্রতি ইটভাটা থেকে নেওয়া হয় ১৫ হাজার টাকা। প্রতি মাসে শুধু ইটভাটা থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা তোলে বন। কাঠ ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিকরা বলছেন, প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন এ ৬ মাস বন মাসোয়ারা নেয়। বর্ষাকালে ইটভাটা বন্ধ থাকলে টাকা দিতে হয় না। আবার বন বিভাগের জরুরি খাতে টাকা লাগলে তখন দিতে হয়। গাছের গুঁড়ি-কাঠ ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য তাদের এ মাসোয়ারা দিতে হয় বলে জানান তারা। একাধিক করাতকল মালিক জানান, প্রতি করাতকল থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। লামায় ৩৫টি করাতকল থেকে মাসে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া প্রতি লাকড়ি ও কাঠবোঝাই গাড়ি থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেয় বন বিভাগ। লামা ডিএফওর আয়ের অন্যতম আয়ের উৎস লামা চেকস্টেশন। অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকে মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত মাসোহারা আদায় করা হয়।
কাঠ ব্যবসায়ী ও বন বিভাগ মাসতুতো ভাই : নাম গোপন রাখার শর্তে বন বিভাগের অন্তত ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, গাছ লুট করা হয় রাতে। অলিখিত ঘুষের রেট নির্ধারণ করে দিয়েছে বন বিভাগ ও প্রশাসন। চেক স্টেশনগুলোয় অবৈধ গাছ পাচারে গড়ে প্রতি গাড়ি থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে এ কমিশন তুলেন রেঞ্জ ও বিশেষ টহল দলের কর্মকর্তারা। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম ও বন বিভাগের লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে টাকা না গেলে গাছের একটি পাতাও কেউ ছিঁড়তে পারে না। বান্দরবনের ৮টি রেঞ্জের মধ্যে খ্যায়াচলং, টংকাবতী, পাইন্দু রেঞ্জের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেটে ঘুষের টাকা যায়, কারো কাছে কম আর কারো কাছে বেশি। লামা সদর রেঞ্জ, মাতামুহুরী রেঞ্জ, তৈন রেঞ্জ, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ, ডলুছড়ি রেঞ্জ ও আলীকদম রেঞ্জ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে লামা তৈন রেঞ্জের কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান বাধা এসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
গত বছরের ১২ নভেম্বর বিকেলে বান্দরবান বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মুনতাসির রহমানের নেতৃত্বে জেলা সদরের টংকাবতী-সুয়ালক সংযোগ সড়কের মিঠাখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় টংকাবতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রাফি-উদ-দৌলা সরদারসহ বন বিভাগের বিশেষ টহল দল ট্রাকসহ অবৈধ ২৮০ ঘনফুট জ্বালানি-কাঠ জব্দ করে। একই মাসের ১৭ নভেম্বর ভোর ৪টায় অভিযানে ১০০ ঘনফুট সেগুনসহ বিভিন্ন কাঠবোঝাই পিকআপ জব্দ করে বন বিভাগ। জানা যায়, পরে জব্দ কাঠ বন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর টিপি কৌশলে পেয়ে যায় পাচারকারী সিন্ডিকেট। বন বিভাগের গোপন সূত্র বলছে, অভিযান চালিয়ে যেসব কাঠ আটক করা হয় পরে বন বিভাগ নিলামে বিক্রি করে দেয়।
নিলামের সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যরাই নিলামে অংশ নেন। ফলে তারাই পেয়ে যান। আটক কাঠের দাম নিয়েও রফা-দফা করা হয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। পরে নিলাম হওয়া গাছ পরিবহন করার জন্য তাদের দেওয়া হয় গাছ বৈধকরণের পরিবহন পারমিট (টিপি)। এবার এই টিপি পাচারকারীদের অস্ত্র হয়ে ওঠে। বনের গাছ লুট করে বৈধভাবে পাচার করতে তাদের আর অসুবিধা হয় না। কাঠ ব্যবসায়ী আর বন বিভাগ মাসসুতো ভাইয়ের সম্পর্ক বজায় রেখে দেদারসে বনের গাছ লুট করে। গাছ জব্দ করা হলে কাঠ ব্যবসায়ীর লোকসানের বদলে আরো বেশি লাভ হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিজের বাপের জমির গাছ মনে করে এখানে গাছ কাটা হয়। বন বিভাগ কিছুই বলে না। এমনকি খোঁজ নিতেও আসে না। একজনের জোত পারমিট দেখিয়ে একাধিকবার গাছ পাচার করা হয়। একজনের নিজের বাগানের গাছ এত দ্রুত বাড়ে আর সেই গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়, এটা তো হওয়ার কথা নয়। জোত পারমিট পাওয়া ব্যক্তির বাইরে গিয়ে গাছ বিক্রির সুযোগ নেই। যদি কেউ স্থানীয় স’মিলে গাছ বিক্রি করতে যায়, তখন ধরে টাকা নেয় বন বিভাগ। নিজের বাগানের গাছ কাটলেও বিপদ। নিজের বাগানের গাছ কেটে জোত পারমিট থাকা ব্যক্তির কাছেই বিক্রি করতে হয়। এটা বাধ্যতামূলক। প্রভাবশালী চক্রের বাইরে সাধারণ মানুষ বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গাছ কাটতে বা বিক্রি করতে গেলে বন বিভাগ এবং ‘স্পেশাল ফোর্স’ তাদের নানাভাবে হয়রানি করে; এমনকি প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলার ভয়ও দেখানো হয়। এ দুর্নীতির মাধ্যমে রিজার্ভ ফরেস্ট বা সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পারমিটের আড়ালে পাচার করা হয়।
কাখৈই পাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, বন বিভাগ-প্রশাসন সবাইকে ম্যানেজ করেই গাছ কাটে লুটেরা-চক্র। দুই বছর ধরে বনের গাছ কেটে সরানো হচ্ছে কিন্তু বন বিভাগ-প্রশাসন কিছুই করে না। এটা তো অস্বাভাবিক বিষয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান চ্যাপ্টারের সভাপতি জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, বন বিভাগের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই অবৈধভাবে বন উজার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে আছি। মিটিং শেষ করে কথা বলব।’ পরে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও উত্তর দেননি তিনি।
জানতে চাইলে বান্দরবন বিভাগীয় কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বিষয়ে এমন অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এসবে জড়িত নই। আমার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেব।’ বনের গাছ লুটের বিষয়ে প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমার কোনো অঞ্চলের কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী যদি গাছ পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত থাকে আর যদি প্রমাণ হয়, তাহলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ চাকরি আইন অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান রয়েছে তাই করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন