ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ভাঙচুর হওয়া ভাস্কর্য পরিদর্শন করেছেন ঢাকা থেকে আগত নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাস্কর্য পরিদর্শন, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে দ্রুত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং যথাযথ মর্যাদায় ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ শুরু হয়। এ ঘটনায় প্রথমদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে জেলা প্রশাসন জানায়, বীরশ্রেষ্ঠের প্রকৃত অবয়বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। তবে বিদ্যমান ভাস্কর্য ভাঙার পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক এবং অগ্রদূত সম্পাদক আবু সাইদ খান, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক কমিশনার ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজীম তিতিলসহ অন্যরা। এ সময় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বোন রিজিয়া বেগম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবু সাইদ খান ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
নূর খান লিটন বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে তিনি আগের স্থানেই আরও নান্দনিকভাবে ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রের ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই এবং যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করে, তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জাকির হোসেন বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ফারহা তানজীম তিতিল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক বা স্থাপনা স্থানান্তর বা পুনর্নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণকে অবহিত করে এবং সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে হওয়া উচিত। পাশাপাশি যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তারা ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং দ্রুত ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন