রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও ‘রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিনসহ চার জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সাথে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১২ জুলাই জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশানুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন—মো. নাছির উদ্দিন (চেয়ারম্যান, ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদ), সন্তোষ কান্তি দাশ (সদস্য, ২ নম্বর ওয়ার্ড), জাকের হোসেন (সদস্য, ৫ নম্বর ওয়ার্ড),আব্দুল মতিন (সদস্য, ৬ নম্বর ওয়ার্ড)।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ-২০২৫’ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত প্রত্যয়নপত্র ইস্যু এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।
তদন্তে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) (খ), ৩৪(৪)(ঘ) ও ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করছে, এমন গুরুতর অভিযোগের পর তাদের পদে বহাল রাখা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমীচীন নয়।
একযোগে চেয়ারম্যান ও তিন ইউপি সদস্য বরখাস্তের পর আলীকদমে প্রশাসনিক সাড়া পড়ে গেছে। এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম জানান, “এটি চূড়ান্ত নয়, সাময়িক বরখাস্ত। অভিযুক্তদের শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। ইউপি পরিচালনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সাথে আলোচনা হয়েছে, তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রোহিঙ্গাদের ভোটার করার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুরো আলীকদম উপজেলা জুড়ে তোলপাড় ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ নাগরিকেরা সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার বিশ্বাস যোগ্যতা রক্ষায় এই জালিয়াতি চক্রের গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার পেছনে আরও কারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরো পড়ুন→পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন