বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার হিসাব–সহকারী মো. মামুনুর রশীদ সরকার কমিশনের নামে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক থানজামা লুসাইকে দায়িত্ব দেয়া হয়। থানজামা লুসাই পরিষদে যোগদানের পর তার সাথে সক্ষতা গড়ে তুলেন মামুন। সেই সুযোগে থানজামা লুসাইয়ের নাম ব্যবহার করে জুন ফাইনালসহ পুরো সময় জুড়ে কমিশনের নামে চাঁদাবাজি করে যান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১০ জন স্থানীয় ঠিকাদার জানান, প্রকৌশল শাখার হিসাব–সহকারী মো. মামুনুর রশীদ সরকার নির্মাণকাজের বিল পরিশোধের সময় চেয়ারম্যান নাম ব্যবহার করে ঠিকাদারদের ওপর কমিশনের জন্যে চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিটি কাজের বিল থেকে তিনি দের শতাংশ হারে কমিশন আদায় করেন। এছাড়া জুন মাসকে কেন্দ্র করে ‘জুন ফাইনাল’-এর অজুহাতে কমিশনের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে আদায়ের অভিযোগও তোলেন ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের দাবি, কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা নির্ধারিত পরিমাণের কম দিলে পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কাজের ফাইল আটকে রাখা হয়। তাদের আরও অভিযোগ, মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আনার কথা বলে অতিরিক্ত আধা শতাংশ কমিশনও নিয়ে থাকেন এই মামুন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের হিসাব–সহকারী মো. মামুনুর রশীদ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি প্রতিদিন ওভারটাইম করি, কিন্তু সরকার আমাকে ওভারটাইমের কোনো বেতন দেয় না। এরপরও কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করে, তাহলে বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বান্দরবানের সিনিয়র সাংবাদিকরা আমাকে চিনে আপনি তাদের থেকে আমার ব্যাপারে খোজ নেন।”
এইদিকে পরিষদের একটি সূত্রের দাবি, হিসাব সহকারীর চাকরি পাওয়ার পর মামুনের আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। তিনি হঠাৎ বনে গেছেন অটেল
সম্পদের মালিক। বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতান পুর এলাকায় বিশাল পুকুরসহ কিনেছেন জমি। পৌর শহরের কালঘাটা বীর বাহাদুর নগর এলাকায় ৪০ শতক জমি রয়েছে তার। ৬ মাস পরপরই বদলান ব্যবহারের মোটরসাইকেল। এখন সাধারণ কর্মচারী কিভাবে এত সম্পদের মালিক হলো এই নিয়ে চলছে জেলা জুড়ে নানান আলোচনা সমালোচনা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন