বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় জননিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ১০ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪ এর মধ্যবর্তী ছড়াপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—
৫টি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন,
৫টি আইইডি,১টি ডেটোনেটর,১টি সোলার প্যানেল,বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ,
মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক,
এবং কিছু সিভিল পোশাক।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাইন ও আইইডিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপদ করা হয় এবং লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধীন বাইশফাঁড়ি বিওপি’র সদস্যরা পৃথক আরেকটি অভিযানে সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—
৩০ কেজি দাহ্য পাউডার,
৩০ কেজি মেথাইল ইথাইল কিটোন পারঅক্সাইড,
৩০ রোল নাইলন কাপড়,
এবং ৩০ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক সামগ্রী পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষায়িত রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও নাশকতা প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরো পড়ুন→নিজ নামে উদযাপিত হবে পাহাড়ের সামাজিক উৎসব: দীপেন দেওয়ান


