বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত পানবাজার মালিপ্রু ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে পরম শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা’ পালিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সার্বিক পরিচালনা ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন পানবাজার মালিপ্রু ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির- সভাপতি রিপন তঞ্চঙ্গ্যা।
বিহারের অধ্যক্ষ পূজনীয় আর্য্য ভান্তে জানান, বৌদ্ধ ধর্মমতে এই পবিত্র তিথিতেই রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৌতমের মাতৃগর্ভে আগমন, গৃহত্যাগ, বুদ্ধত্ব লাভের পর সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের উদ্দেশ্যে প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন এবং শুভ বর্ষাবাসের (উপোস) সূচনা ঘটেছিল।
উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে উপাসক-উপাসিকা ও সর্বস্তরের দায়ক-দায়িকাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা মুখর উপস্থিতি দেখা যায়।
সকাল ৯টায় বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ এবং দেশ ও বিশ্বের শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। ভক্তরা বিহারের পূজনীয় ভান্তের উদ্দেশ্যে ফলমূল, মিষ্টান্ন ও পিন্ডু দান করেন।
আষাঢ়ী পূর্ণিমার এই তিথি থেকেই বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের তিন মাসব্যাপী কঠোর সাধনা ও ধ্যান চর্চার ‘বর্ষাবাস’ শুরু হয়। বর্ষাবাস পালনকালে ভিক্ষুগণ রাতে বিহারের বাইরে অবস্থান করেন না এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে বুদ্ধের মূল শাসন প্রচার ও আত্মশুদ্ধির সাধনায় মগ্ন থাকেন।
ধর্মীয় সভায় পূজনীয় আর্য্য ভান্তে সমবেত পিন্ডদানকারী দায়ক-দায়িকাদের উদ্দেশ্যে আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখী ও সমৃদ্ধিময় জীবনের জন্য বিশেষ করুণা দেশনা ও আশীর্বাদ প্রদান করেন।
আরো পড়ুন→সরকার গঠনের ৫ মাস পার হলেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেই: মতবিনিময় সভায় বক্তারা
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন