
বান্দরবান বন বিভাগের সুয়ালক চেক স্টেশনের স্টেশন অফিসার (ডেপুটি রেঞ্জার) মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ কাঠ ও অনুমোদনহীন ফার্নিচার পাচারে সহযোগিতা, অবৈধ অর্থ আদায় এবং দায়িত্বে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে বন বিভাগের একাধিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত তিন বছর ধরে তিনি বান্দরবান বন বিভাগের সুয়ালক চেক স্টেশনে কর্মরত রয়েছেন। বন বিভাগের প্রচলিত বদলি ও পদায়ন নীতিমালাকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন একই পদে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুর রহমানকে ১৫ লাখ টাকা এবং মাসিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে তিনি সুয়ালক চেক স্টেশনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
বন বিভাগের একটি সূত্রের দাবি, আবুল হোসেন নিয়মিত চেক স্টেশনে উপস্থিত থাকেন না। অধিকাংশ সময় তিনি বান্দরবান জেলা সদরে অবস্থান করে ফরেস্ট গার্ডদের মাধ্যমে বনজদ্রব্যবাহী যানবাহন তল্লাশি ও ট্রানজিট পাস (টিপি) স্বাক্ষরের কাজ পরিচালনা করেন। সূত্রটির ভাষ্য, তার মূল দায়িত্বের পরিবর্তে জেলা সদর থেকে পাচার হওয়া কাঠ ও অনুমোদনহীন ফার্নিচার পরিবহনে প্রভাব বিস্তারই তার প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সূত্রের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পাচারকৃত কাঠ বা অনুমোদনহীন ফার্নিচার জব্দের নজির নেই। অথচ প্রায় প্রতি রাতেই বান্দরবান জেলা সদর থেকে অনুমোদনহীন ফার্নিচার দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে চম্পাফুল, গুটগুটিয়া, গর্জন ও শিউরির মতো মূল্যবান এবং কর্তন-নিষিদ্ধ গাছের গোল কাঠ ও চিরাই করা কাঠ পাচারের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, অবৈধ কাঠবাহী প্রতিটি যানবাহন থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এমনকি বৈধ ট্রানজিট পাস (টিপি) থাকা যানবাহনের চালকদেরও হয়রানির ভয় দেখিয়ে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও কাঠ পাচারচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রোয়াংছড়ি উপজেলার বাগমারা এলাকা এবং বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা থেকে রাতের আঁধারে পিকআপে করে কুহালং ইউনিয়নের কেয়ামলং হয়ে সদর ইউনিয়নের গোয়ালিয়া–রেইচা বাজার সড়ক ব্যবহার করে চম্পাফুল, গুটগুটিয়া, গর্জন ও শিউরির মতো মূল্যবান ও কর্তন-নিষিদ্ধ কাঠ পাচার করা হয়। তাদের দাবি, সেনাবাহিনীর একটি তল্লাশি চৌকি এড়িয়ে এই রুট ব্যবহার করে সহজেই কাঠ বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের আরও দাবি, প্রতিটি কাঠবাহী গাড়ি পার করে দিতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। আর ফার্নিচারের ক্ষেত্রে প্রতি পিস বা পদ অনুযায়ী ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। একেকটি গাড়িতে সাধারণত ৮ থেকে ১০টি ফার্নিচার থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের একাধিক পাচারচক্রের সঙ্গে আবুল হোসেনের সখ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুয়ালক চেক স্টেশনে গিয়ে ডেপুটি রেঞ্জার মো. আবুল হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরো পড়ুন→বান্দরবানে জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশের সড়ক নির্মাণে নয়ছয়ের অভিযোগ
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন