নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুলাই ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫০৩০ জন

চোখের আলো হারাতে বসা মানুষের পাশে কে এস মং, তিন হাজার রোগী পেয়েছেন ফ্রি চিকিৎসা

Copy Link

পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ২০২৫ সাল থেকে নিজস্ব উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। তার এ মানবিক উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার রোগী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ১ হাজার রোগী সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা এবং ৪৭০ জন রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

এই কার্যক্রমের সূচনা হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নে আয়োজিত প্রথম বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে। দিনব্যাপী ওই ক্যাম্পে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এ সময় ৯৭ জন ছানি রোগী এবং ১২ জন চোখে মাংস বৃদ্ধি (প্টেরিজিয়াম) রোগী শনাক্ত হন। পরবর্তীতে ছানি রোগীদের চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

এর এক মাস পর, ২০ অক্টোবর ২০২৫, কে এস মং এর উদ্যোগে রুমা উপজেলায় দ্বিতীয় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ওই ক্যাম্পে ৬৪৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তাদের বিনামূল্যে ওষুধ ও আই ড্রপ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২৬২ জন ছানি রোগী শনাক্ত করা হয় এবং ২৮০ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। শনাক্ত ছানি রোগীদেরও পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৪ জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রেইচা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আরও একটি বৃহৎ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ৯৬৩ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পে *৪৮৩ জন ছানি রোগী শনাক্ত হন এবং ৪৫৮ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। শনাক্ত ছানি রোগীদের মধ্যে ১০০ জনকে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সফলভাবে অপারেশন করানো হয়েছে। বাকি রোগীদেরও পর্যায়ক্রমে অপারেশনের আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কে এস মংয়ের এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে মানবিক সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন । আর চিকিৎসাসেবার কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশের স্বনামধন্য চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য অঞ্চলের হাজারো মানুষের চোখে ফিরছে নতুন আলোর স্বপ্ন।

স্থানীয়দের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন কে এস মং। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও দরিদ্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য তার এই মানবিক উদ্যোগ বর্তমান সময়ে জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আরো পড়ুন→রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক মাসে প্রাণ হারালো ৫ শিশু

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চোখের আলো হারাতে বসা মানুষের পাশে কে এস মং, তিন হাজার রোগী পেয়েছেন ফ্রি চিকিৎসা

রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক মাসে প্রাণ হারালো ৫ শিশু

বান্দরবান পৌরসভার বর্জ্য এখন কৃষি জমিতে

বান্দরবানে হ্যান্ডমেড জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘আঁচল’ নিয়ে এগোচ্ছেন নাঈমা

মানবিক সেবার জন্যে সম্মাননা পেল রাঙ্গামাটি হিল সার্ভিস পরিবার

২৭ বিজিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আরবি ক্যালিগ্রাফি স্মারক উপহার

বাংলা ভাষা-সাহিত্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র অবদান অনস্বীকার্য: জিয়া হাবীব আহসান

তবলছড়ি বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী আবুল কালামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

বান্দরবানে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

১০

আলীকদমে অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়া বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে প্রশাসন

১১

কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট বন্ধ, হ্রদের পানির স্তর নেমেছে নিরাপদ পর্যায়ে

১২

রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল 

১৩

নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খননের সাশ্রয় ১ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

১৪

বিজিবির অভিযানে ৩৮ বোতল কেরু উদ্ধার

১৫

প্রথম দফায় ছানি অপারেশন সম্পন্ন, চোখের আলো ফিরে পেলেন ১০০ রোগী

১৬

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

১৭

নাইক্ষ্যংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা

১৮

গর্জনিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডিরেক্টর বডির সভা অনুষ্ঠিত

১৯

নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল

২০
error: Content is protected !!