বান্দরবানের লামা উপজেলার বোচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে ৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ ফরিদ আহমেদ শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়ে ওই শিশুটিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির মা এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক কোনো জবাব না দিয়ে অফিস কক্ষে অবস্থান করেন। পরে গ্রামবাসীরা তাকে ঘেরাও করে জবাবদিহিতা দাবি করেন এবং অপসারণের দাবিও তোলেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা রজনী ত্রিপুরা বলেন, ছোট বাচ্চাদের এভাবে মারলে তারা কোথায় যাবে? আমরা এমন শিক্ষক চাই না।
অভিভাবকদের দাবি, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা জুম চাষে ব্যস্ত ছিলেন। মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা দ্রুত বাড়িতে এসে তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যান এবং শিক্ষকের কাছে জবাবদিহিতা চান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম আশরাফ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। ছোট শিশুকে এভাবে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিণয় চাকমা জানান, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে বলে জানিয়েছে। তারা বলছেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি শিশুর ওপর নির্যাতন নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ওপর আঘাত। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলেন, “একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক দায়িত্ব। এমন অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।”
আরো পড়ুন→নাইক্ষ্যংছড়ি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান,৩৬ হাজার টাকা জরিমানা


