রুমা প্রতিনিধিঃ দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ বীর রুমা জোন।
প্রথম ধাপে ৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যা পাহাড়ি জনপদের স্বাস্থ্যখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর হলরুমে দুই সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সেবা প্রদানই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের উপঅধিনায়ক মেজর মোঃ মাহফুজুর রহমান, পিএসসি (৩৬ বীর)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন ডা.সোহাগ মিয়া সজিব।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর নার্স সুপারভাইজার এলিপ্রু মারমা, সিনিয়র নার্স লাল লিনপার বম এবং পাইন্দু ইউনিয়নের ইউপি সদস্য লালবেন বমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ইউপি সদস্য লালবেন বম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে সাধারণ রোগও জটিল হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ পাহাড়ি মানুষের জন্য এক নতুন আশার আলো।

অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের নির্বাহী পরিচালক উঃ নাইন্দিয়া থের বলেন,পাহাড়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখন পাড়া-মহল্লায় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মেজর মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, দুই সপ্তাহব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৬৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃসেবা, শিশুস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
রুমা জোনের ৩৬ বীর জোন কমান্ডার মোঃ মেহেদী সরকার, পিএসসি, এসবিপি বলেন, দুর্গম পথ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দরিদ্র ও অসহায় পরিবার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাস্তবতা অনুধাবন করেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর লক্ষ্য হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও নিরাপদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
স্থানীয় এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মহৎ উদ্যোগের ফলে দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা লাভ করবেন।
আরো পড়ুন→বান্দরবানে জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল প্রশিক্ষণ সম্পন্ন


