বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বুধবার (১ জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। কর্মসূচির মধ্যে ছিল গত ১৭ বছরে মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভা।
সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নির্বাচিত অসহায়, দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত উপকারভোগীদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। জেলা বিএনপির সদস্য ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ নুরুল আলম কোম্পানি বলেন, এ অনুদান উপকারভোগীদের জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।
সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইন-শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনসেবায় আন্তঃদপ্তর সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ মতবিনিময় সভার মূল লক্ষ্য।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সহায়তা প্রদান, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা—সব মিলিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিগুলো জনস্বার্থ ও স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন