
বান্দরবানের রুমা প্রেসক্লাবে প্রায় দুই যুগ ধরে একই নেতৃত্ব বহাল থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমার প্রভাবের কারণে সংগঠনটিতে নিয়মিত নেতৃত্ব পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক চর্চা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রুমা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্লাবকে একটি পেশাজীবী সংগঠনের পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সদস্যদের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকরা।
অভিযোগকারী সাংবাদিকদের ভাষ্য, শৈহ্লাচিং মারমা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। তাদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিস্বার্থে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রুমা উপজেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, “একটি পেশাজীবী সংগঠনে নিয়মিত নির্বাচন, সদস্যদের মতামতের প্রতিফলন এবং নেতৃত্বে পরিবর্তন থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু রুমা প্রেসক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে সেই চর্চা অনুপস্থিত। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।”
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সাংবাদিকদের সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত নির্বাচন, সদস্য তালিকা হালনাগাদ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে শৈহ্লাচিং মারমার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে রুমার স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক সাংবাদিক সংগঠন গড়ে তুলতে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে সংগঠনটি আরও বিতর্কের মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আরো পড়ুন→থানচিতে কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক অধিবেশন
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন