অসীম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম আর বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন দেশের পরিচিত বাইসাইকেল ট্রাভেলার ও সামাজিক কর্মী রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ছেলে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। নেপাল ভ্রমণের বহু প্রতীক্ষিত সার্ক স্টিকার ভিসা হাতে পাওয়ার পর এবার তিনি প্রস্তুত এক ইতিহাস গড়ার অভিযানে। আগামী ১৪ আগস্ট ২০২৬ কক্সবাজার জিরো পয়েন্ট থেকে সাইকেলে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।
সাধারণত ভ্রমণপিপাসুরা বাংলাদেশ থেকে বিমানে নেপাল গিয়ে সাইকেল অভিযান শুরু করলেও, বীর কুমার বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও এক চ্যালেঞ্জিং পথ। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করে নেপালের অত্যন্ত দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং চারটি ট্রেইল— মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (ABC) এবং এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (EBC)-এ সাইকেল নিয়ে আরোহণ করবেন তিনি। এরপর চূড়ায় উড়িয়ে দেবেন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যের গল্পটি বেশ দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। ইন্টারিম সরকারের শুরুর সময় থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও দপ্তরে অক্লান্তভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন এই তরুণ। কাপ্তাই, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ঢাকা— বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে হয়েছে অর্থ অপচয়, দেখতে হয়েছে ব্যর্থতার মুখ। কিন্তু অদম্য জেদ আর স্বপ্ন তাঁকে কখনো থামিয়ে রাখতে পারেনি।
অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা জানান: শুরু থেকেই তাঁর এই স্বপ্নের কথা তিনি শেয়ার করেছিলেন দেশের জনপ্রিয় সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং প্রখ্যাত পর্বতারোহী বাবর আলীর সাথে। তাঁরা কোনো বিরক্তি প্রকাশ না করে বরং তাঁর প্রজেক্ট প্রপোজাল, পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরিতে পরম যত্নে সহায়তা করেছেন।
ব্যক্তিগত স্বপ্নের পাশাপাশি এই অভিযান দেশ ও জাতির ভাবমূর্তি বাড়ানোর একটি মাধ্যম বলে মনে করেন এই তরুণ। তিনি কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক এবং ওয়াগগা ভলান্টিয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির কাজ করে আসছেন তিনি। সাইকেল এক্সপেডিশনের মাধ্যমে তিনি এই বার্তাগুলোই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চান।
অবশ্য এই ভিসা প্রাপ্তি এবং এতদূর আসার পেছনে রয়েছে অনেকের অবদান। বিশেষ করে সদ্য সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান-এর আন্তরিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় নতুন করে আস্থা ফিরে পান তিনি। এছাড়া রাঙামাটি সদর জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, চাকমা সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি জেলা আইনজীবী সমিতি এবং মানস মুকুল চাকমাসহ অনেকের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সার্ক স্টিকার ভিসা পেলেও ৯০ দিনের এই অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল এই এক্সপেডিশন সম্পন্ন করা নিয়ে এখন এক ধরনের আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছেন বীর কুমার। এই অভিযান সফল করতে জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। অন্যথায় বহু বছরের এই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তাই দেশের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিত্তবান ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি তাঁর আকুল আবেদন—তাঁরা যেন এই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী ১৪ আগস্ট তিনি তাঁর এই ঐতিহাসিক ‘সি টু হিমালয়াস’ (Sea to Himalayas) এক্সপেডিশন শুরু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম:
বিকাশ/নগদ/রকেট (পার্সোনাল): 01836202303
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম: Bir Kumar Tanchangya
হিসাব নম্বর: 5403101011755
ব্রাঞ্চ: বড়ইছড়ি, কাপ্তাই, রাঙামাটি। তাঁর এই স্বপ্নযাত্রাকে সফল করতে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন