পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ২০২৫ সাল থেকে নিজস্ব উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। তার এ মানবিক উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার রোগী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ১ হাজার রোগী সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা এবং ৪৭০ জন রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

এই কার্যক্রমের সূচনা হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নে আয়োজিত প্রথম বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে। দিনব্যাপী ওই ক্যাম্পে ৪০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এ সময় ৯৭ জন ছানি রোগী এবং ১২ জন চোখে মাংস বৃদ্ধি (প্টেরিজিয়াম) রোগী শনাক্ত হন। পরবর্তীতে ছানি রোগীদের চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

এর এক মাস পর, ২০ অক্টোবর ২০২৫, কে এস মং এর উদ্যোগে রুমা উপজেলায় দ্বিতীয় চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ওই ক্যাম্পে ৬৪৮ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তাদের বিনামূল্যে ওষুধ ও আই ড্রপ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ২৬২ জন ছানি রোগী শনাক্ত করা হয় এবং ২৮০ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। শনাক্ত ছানি রোগীদেরও পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৪ জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রেইচা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আরও একটি বৃহৎ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ৯৬৩ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ক্যাম্পে *৪৮৩ জন ছানি রোগী শনাক্ত হন এবং ৪৫৮ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। শনাক্ত ছানি রোগীদের মধ্যে ১০০ জনকে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সফলভাবে অপারেশন করানো হয়েছে। বাকি রোগীদেরও পর্যায়ক্রমে অপারেশনের আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কে এস মংয়ের এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে মানবিক সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন । আর চিকিৎসাসেবার কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশের স্বনামধন্য চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য অঞ্চলের হাজারো মানুষের চোখে ফিরছে নতুন আলোর স্বপ্ন।

স্থানীয়দের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন কে এস মং। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও দরিদ্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য তার এই মানবিক উদ্যোগ বর্তমান সময়ে জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আরো পড়ুন→রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক মাসে প্রাণ হারালো ৫ শিশু