পার্বত্য জেলা বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ’ (জলকেলি উৎসব) উপলক্ষে পাহাড়জুড়ে বইছে উৎসবের আনন্দধারা। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই চলছে উৎসব উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি।
মারমা সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি জনপদের আনাচে-কানাচে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে জলকেলির মধ্য দিয়ে পুরনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার প্রতীকী আয়োজনই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ।
তবে বান্দরবান সদর উপজেলায় মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ উদযাপনকে ঘিরে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। উৎসব উদযাপন পরিষদের পুরনো ও নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের কারণে প্রস্তুতিতে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গেছে, উভয় পক্ষই নিজ নিজ উদ্যোগে আলাদাভাবে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বটতলী পাড়াবাসী জাঁকজমকপূর্ণভাবে মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল সেখানে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বটতলী পাড়া উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হ্লাসিংমং মারমা।
রোয়াংছড়ি উপজেলাতেও থেমে নেই উৎসবের প্রস্তুতি। আগামী ১৬ এপ্রিল রোয়াংছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আয়োজকরা।
এছাড়া, ১৭ এপ্রিল রুমা উপজেলার পলিকা পাড়া সংলগ্ন সাঙ্গু নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হবে জলকেলি উৎসবের আরেকটি বড় আয়োজন। এখানেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ উপলক্ষে বান্দরবান সদরসহ জেলার সাতটি উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে প্রস্তুতি। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে ঘিরে মারমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কিছু সাংগঠনিক জটিলতা থাকলেও মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃকে ঘিরে বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে উৎসবের আনন্দধারা, যা পাহাড়ের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


