Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

রুমায় জ্বালানি সংকটে পর্যটন ও জনজীবনে স্থবিরতা

চনুমং মারমা
আপডেট : March 29, 2026
Link Copied!

রুমা প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের রুমা উপজেলা বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে অকটেন ও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। ফলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে পর্যটকবাহী স্পিডবোট—সব ধরনের পরিবহন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রুমার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। কিন্তু জ্বালানির অভাবে অধিকাংশ চালক তাদের বাইক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এতে দিন এনে দিন খাওয়া চালকদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।
কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, “বেশি টাকা দিলে কিছু জায়গায় তেল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি লিটার ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক দামের প্রায় দ্বিগুণ।”
রুমার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ রিজুক ঝরনা-তেও এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরে সেখানে কোনো পর্যটকবাহী স্পিডবোট চলাচল করছে না। অকটেন ও পেট্রোলের অভাব এবং অতিরিক্ত দামের কারণে মাঝিরা বোট চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
এর ফলে পর্যটন মৌসুমে আগত পর্যটকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, কয়েকজন খুচরা তেল বিক্রেতা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই সংকটের পেছনে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তারা তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করছে এবং পরে তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে। প্রশাসনের কার্যকর তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের কারণে পুরো উপজেলা অচল হয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এসব মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তেলের বাজার মনিটরিং জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে করে জনজীবন ও পর্যটন ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

আরো পড়ুন→বান্দরবানের নতুন জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস