নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রোয়াংছড়ি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম তারাছা ইউনিয়নে অবস্থিত বেতছড়া স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং। শুক্রবার (৮ মে) বিকাল ৪টায় স্কুল পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এস মং বলেন, “একটি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দলমত নির্বিশেষে শিক্ষা ক্ষেত্রে সকলের আন্তরিকতা প্রয়োজন, কারণ শিক্ষাই সমাজের মূল ভিত্তি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্গম এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করে যারা সমাজ বদলে অবদান রাখছেন, তাদের যথাযথ সম্মাননা জানানো হবে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথি আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন। প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ও শিক্ষা মান উন্নয়নে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন:
ধর্মীয় ও সামাজিক অনুদান একই সফরে তিনি রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিংঞামুখ পাড়া বৌদ্ধ বিহারের প্রয়াত বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ভদন্ত কেসোলা থেরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের জন্য পাড়াপ্রধানের (কারবারী) হাতে নগদ ১ লক্ষ টাকার অনুদান তুলে দেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: হ্রাথোয়াইহ্রী মারমা: প্রতিষ্ঠাতা, বেতছড়া স্কুল এন্ড কলেজ। উনু মং: চেয়ারম্যান, তারাছা ইউনিয়ন পরিষদ। উছো মং মারমা: সাধারণ সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা। উচসিং মারমা: দপ্তর সম্পাদক, আদিবাসী ফোরাম, বান্দরবান জেলা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাইফুল আলম, প্রকৃতি বড়ুয়া, সাংবাদিক বাবুল খাঁনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধিতে এই সফর ও অনুদান বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন।
আরো পড়ুন→নানা আয়োজনে বান্দরবানে উদযাপিত হলো বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস