Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প
Link Copied!

রাউজানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নাগরিক প্রতিনিধিদল

 

চট্টগ্রামের রাউজানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছে একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল। আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাউজান উপজেলার সুলতানপুর পৌরসভা এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তারা।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন—নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের স্টাফ আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে (সজীব), সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

ঘটনাস্থলে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরতি শীলের পোড়াভিটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা আতঙ্ক সৃষ্টিরই অংশ। আমরা প্রায়ই প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি, কিন্তু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না। আক্রান্ত পরিবারগুলো আদৌ নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কি না—সেই নিশ্চয়তা নেই।” তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

 

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, “নির্বাচনের আগে সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঘটনাস্থলে এসে দেখলাম, এখনো সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া।” তিনি দায়ের করা মামলাগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা বলেন, “ভুক্তভোগীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একটি মামলার (জিআর-২৬১/২৫) পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তা দাখিল হয়নি। বারবার তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়ে গেলে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

ভুক্তভোগী মিঠুন শীল জানান, ঘটনার দিন বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে তাদের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে তার পাসপোর্ট, কাতার যাওয়ার ওয়ার্ক পারমিট ও বিমানের টিকিট পুড়ে গেছে। “আমরা এখন সর্বস্ব হারিয়ে অসহায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সহায়তা পাইনি,” বলেন তিনি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এলাকায় রাতের আঁধারে অন্তত ৯টি বাড়িতে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন স্থানে ব্যানারও টানানো হয়। বর্তমানে তারা নিজেরাই রাতভর গ্রাম পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নাগরিক প্রতিনিধিদল এ ঘটনায় দ্রুত ক্ষতিপূরণ, কার্যকর তদন্ত ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।