babul khan
২১ নভেম্বর ২০১৯, ৯:৫১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫৫৬০ জন

রামুতে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন

Copy Link

কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের ডেইঙ্গা পাড়া এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলন চললেও দেখার কেউ নেই। দিন রাত ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধ হুমকির মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকমারকূল ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রভাবশালী মহলের আদর মিয়া, মোহাম্মদ ও মারছলিমসহ একাধিক সিন্ডিকেটের নেতারা। বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জেল জরিমান করলেও অবাধে বালু উত্তোলন করে চলছে তারা। দিনরাত ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধ এখন হুমকির মুখে।

সরেজমিনে দেখা যায়, যন্ত্রের মাধ্যমে তীর কেটে চলমান এ উত্তোলনে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে নদীর দুই পাড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অবৈধ এ বালি উত্তোলন বন্ধ না হলে ভাঙনের শিকার হবে উপজেলার মিঠাছড়ি ও চাকমারকুলের নদীর দু’পাশের ফসলি জমিসহ বহু বসতঘর। ফলে হুমকিতে পড়েছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভাঙনের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে বাঁকখালী নদীর দুই পাড়ের মানুষ। প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুুখীন হবে।

নদীসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতভিটা ও ফসলি জমি।

উমখালী গ্রামের বেশ কয়েকজন জেলে বলেন, নদীই আমাদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করায় আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। বাঁকখালী নদীতে বর্তমানে প্রায় ৬০ ড্রেজার মেশিন বালি উত্তোলনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকেই বালি উত্তোলনকারীর কাছে এসব মেশিন ভাড়া দিচ্ছেন।

বালি উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা কিছুই জানিনা, নুরু চেয়ারম্যানের নির্দেশে বালি উত্তোলন করছি। কিছু বলার থাকলে তার সাথে যোগাযোগ করেন। নুরু চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। মেশিনের শব্দে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক শব্দদূষণ। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে। অবৈধ এ বালি উত্তোলন বন্ধে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোনোভাবেই বালি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। অথচ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ও নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন, আমি একাধিক বার অভিযান চালিয়ে ড্রেজারও জব্দ করে জেল জরিমানা করেছি। যারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাইক্ষ্যংছড়িতে জামায়াতে ইসলামীর দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

প্রতারণার অভিযোগে আলীকদম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বহিষ্কার

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন ঘিরে রাজবিলায় প্রস্তুতি সভা

সমাজ রক্ষায় মাদককে ‘না’ বলার আহ্বাননে বান্দরবানে মানববন্ধন

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবিতে বিশিষ্ট ৩২ নাগরিকের বিবৃতি

বান্দরবানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে পিসিসিপির শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

নাইক্ষ্যংছড়ি সফরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

রাঙামাটি লেক ভিউ গার্ডেনের সৌন্দর্য বিনষ্টের অভিযোগ

পোয়াংগেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন সম্পন্ন

থানচিতে হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

১০

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত

১১

বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প “সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন”

১২

নাইক্ষ্যংছড়িতে গহীন জঙ্গল থেকে মানব কঙ্কাল উদ্ধার

১৩

বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিটি ভিত্তিহীন: জেলা প্রশাসন।

১৪

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভুমিবেদখল ও হামলার ঘটনা বাড়ছে

১৫

নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পরিদর্শনে এডিশনাল ডিআইজি মো: নাজমুল হক

১৬

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৩ কোটি ২ লক্ষ টাকার ইয়াবা উদ্ধার

১৭

পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে ৪ এমপির যৌথ কি চিঠি

১৮

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উপ–সহকারী প্রকৌশলী মেহেদীর গাফিলতিতে কাজে হয় অনিয়ম

১৯

জনপদের নীরব সেবক–কে এস মং

২০
error: Content is protected !!