বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অবশিষ্ট ১কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: এনামুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে কম ব্যয়ে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের খাল দুইটি পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এরমধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।প্রকল্পের আওতায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি ৪ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার খাল খনন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ২ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে।
চলতি বছরের গত ৩ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও ১০ জুন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে অগ্রগতি ও মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়মিত তদারকি করা হয়। এর ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রায় মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি,যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ১কোটি ৩লাখ ৮৭ হাজার টাকা অব্যয়িত থাকে।
সরকারি বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি নিয়মিত কাজের স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। তার সুদক্ষ ও সঠিক পরামর্শে প্রকল্পটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা হয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। খাল দুইটি পুনঃখননের ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার কৃষক মো: শাহজান এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের কৃষক ছুরুত আলম বলেন, খাল দুইটি খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকবে না। দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশন হবে। এতে এলাকার ফসল হানি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
আরো পড়ুন→বিজিবির অভিযানে ৩৮ বোতল কেরু উদ্ধার
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন