মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্মারক যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সকালে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মুজিবনগর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের পর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওইদিনই স্থানটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং এটিকে দেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত মুজিবনগর সরকারই মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ভাঙচুর ও বিভিন্ন ভাস্কর্য ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলোতে হামলার ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে প্রায় ৩০০টির মতো ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য, অপারেশন সার্চলাইটের চিত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ একটি সুসংগঠিত রূপ পায় এবং ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়ে দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও এ সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই ইতিহাস ধ্বংসের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, মুজিবনগর বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী হিসেবে একটি ঐতিহাসিক স্থান। এর যথাযথ সংরক্ষণ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি মুজিবনগরে পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স ও গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ক্ষতিগ্রস্ত স্মারক পুনর্নির্মাণ, হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার, রাষ্ট্রীয়ভাবে মুজিবনগর দিবস পালন, মুজিবনগরে নির্মাণাধীন জাদুঘরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর পরিদর্শনে অংশ নেন আবু সাইদ খান, শামসুল হুদা, রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজেকুজ্জামান রতন, জাকির হোসেনসহ নাগরিক সমাজের একাধিক প্রতিনিধি। তারা পরিদর্শন শেষে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন→এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং–এর শুভেচ্ছা বার্তা


