জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ৩১তম সম্মেলন (COP31)-এ বাংলাদেশের সরকারি ডেলিগেশনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের তরুণ পরিবেশ ও জলবায়ু সংগঠক মোঃ তহীদুল ইসলাম মাছুম। তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে সরকারি প্রতিনিধিদলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এই বৈশ্বিক সম্মেলন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিজ্ঞানী, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ জলবায়ু নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।
মোঃ তহীদুল ইসলাম মাছুম বর্তমানে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়ক (Coordinator, International Affairs) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for Environmental Research and Technological Innovation (CERTI)-এর মেম্বার সেক্রেটারি। CERTI তিন পার্বত্য জেলার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা ও কাজ করে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ, তরুণ নেতৃত্ব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি Global Youth Platform-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেশ-বিদেশে তরুণদের জলবায়ু সচেতনতা ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন।
COP31 সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণের অন্যতম লক্ষ্য হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকটগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পানির সংকট, ঝরনা ও প্রাকৃতিক পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া, ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, জীবিকার পরিবর্তন এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি, জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার, অভিযোজন অর্থায়ন এবং তরুণদের অংশগ্রহণের বিষয়েও তিনি আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
তাঁর এই অংশগ্রহণকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত বাস্তবতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন