ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর কার্যনির্বাহীর সিল ব্যবহার করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি’র সভায় বিতর্কিত ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি এবং তিন পার্বত্য জেলায় স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
আজ বুধবার (০৪ নভেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, হেমা চাকমার এহেন প্রস্তাব পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে এবং এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি। একইসঙ্গে এই বক্তব্য একান্তই হেমা চাকমার ব্যক্তিগত নাকি পুরো ডাকসুর আনুষ্ঠানিক দাবি—তা অবিলম্বে স্পষ্ট করার জন্য ডাকসুর প্রতি জোর দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি’র নিকট সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় লিখিত প্রস্তাব পেশ করেন হেমা চাকমা। সেখানে ডাকসুর কার্যনির্বাহীর সিল ব্যবহার করে পার্বত্য অঞ্চলে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি এবং তিন পার্বত্য জেলায় স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানো হয়।
পিসিসিপি নেতারা বলেন, বাংলাদেশ ভূখণ্ডে নৃতাত্ত্বিক সংজ্ঞায় কোনো ‘আদিবাসী’ বা ভূমিপুত্র (Son of the soil) বা আদি ও অকৃত্রিম বাসিন্দার অস্তিত্ব নেই। বরং ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আগে বাঙালিরাই সেখানে বসতি গড়েছিলেন।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সম্পাদিত পার্বত্য শান্তি চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওই চুক্তির ‘ক’ ধারার ‘১’ উপধারায় স্পষ্টভাবে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং অঞ্চলটিকে ‘উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল’ বলা হয়েছে। সুতরাং, সংবিধান বা আইন লঙ্ঘন করে এই অঞ্চলের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ স্ট্যাটাস বা ফেডারেল ধাঁচের স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার দাবি বাংলাদেশের একক রাষ্ট্র কাঠামোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক ও ভিত্তিহীন।
বিবৃতিতে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ১৯৭৬-১৯৭৭ সালের দিকে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শান্তিবাহিনীর প্রধান এম এন লারমা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানালে তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তখন জানানো হয়েছিল যে, কেবল উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হেমা চাকমার এ ধরনের দাবি মূলত পাহাড়ে কথিত ‘জুম্মল্যান্ড’ রাষ্ট্র গঠনের গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম হুমকি এমন একটি দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-জনতা কখনোই মেনে নেবে না।
তাই অবিলম্বে ডাকসু কর্তৃপক্ষকে সংবাদ সম্মেলন বা আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে যে—হেমা চাকমার উপস্থাপিত এই দাবিটি কি ডাকসুর প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, নাকি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বা কোনো গোষ্ঠীর প্ররোচিত এজেন্ডা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন