বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা মহানগর শাখা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হ্লামংচিং মারমার সঞ্চালনায় এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি চন্দ্রিকা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নেবাই অং খুমী।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি অনিক কুমার দাশ, পিসিপি ঢাকা পলিটেকনিক শাখার সহসভাপতি ক্যারি চাকমা, গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (গাসু) ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বগত ম্রং, পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কনেজ চাকমা এবং আদিবাসী যুব ফোরামের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুম্পা হাজং।

সমাবেশে অনিক কুমার দাশ বলেন, শিক্ষা আন্দোলনের ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আশানুরূপ পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষা ক্রমেই বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও নাজুক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে পাহাড়ের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
ক্যারি চাকমা বলেন, বিভিন্ন সরকার তাদের শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থাকে বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে সংকটাপন্ন করে তুলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়ছে। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে।
স্বগত ম্রং বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা নিশ্চিত করা। আদিবাসীরা শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের আদিবাসীদের ওপর বৈষম্য বন্ধ করে সমতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে সৃজন মৃ বলেন, রাষ্ট্র শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা প্রতিষ্ঠায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়বে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কনেজ চাকমা বলেন, বৈষম্যহীন ও গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষা আন্দোলন হলেও সেই লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আগে সরকারি চাকরি ও শিক্ষা খাতে আদিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তা কমে যাওয়ায় তারা আরও পিছিয়ে পড়ছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন এবং চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তুম্পা হাজং বলেন, কাগজে-কলমে বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার কথা না বলে তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আদিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষা খাতে পুনরায় ৫ শতাংশ কোটা বহালের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল বের করেন। পরে সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন