মোঃ শাকিব হোসেন, রাঙ্গামাটি
১৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫০২৭ জন

কায়সার কামালের অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগে পিসিসিপি’র তীব্র প্রতিবাদ

Copy Link
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"effects":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শীর্ষপদে বসে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দের অনধিকার চর্চা ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জমির উদ্দিন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১৯ নং) সচেতন ও দেশপ্রেমিক সংসদ সদস্য আন্না মিনজ অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নিজেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘সমতলের নৃ-গোষ্ঠী’র গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর শীর্ষ আসনে বসা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সম্পূর্ণ অযাচিত, অসাংবিধানিক এবং অদূরদর্শীভাবে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগ করেন। একজন উচ্চশিক্ষিত আইনজ্ঞের মুখে এই শব্দের বারবার ব্যবহার দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক গভীর চক্রান্তের শামিল।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ (ক) অনুযায়ী, মূল বাঙালি জনগোষ্ঠী ব্যতীত অন্যান্য ভিন্ন সংস্কৃতির অধিকারীদের ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়’ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা: ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০২২ সালের ১৯ জুলাই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ২০১৯ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

ঐতিহাসিক দলিল: ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও জেলা পরিষদ আইনেও ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যা স্বয়ং উপজাতীয় নেতারা স্বাক্ষর করে মেনে নিয়েছিলেন। ফলে ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য সরকারের সকল আইনি প্রজ্ঞাপন ও সাংবিধানিক বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখানোর শামিল।

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ

বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ডেপুটি স্পিকার জনাব কায়সার কামাল ইতিপূর্বেও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ইতিহাস-বিবর্বিত ও রাষ্ট্রবিরোধী তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেছিলেন যে—উপজাতিরাই এ দেশের প্রথম বাসিন্দা এবং বাঙালিরা তাদের জায়গা দখল করেছে।

অথচ উয়ারী-বটেশ্বর বা পুণ্ড্রবর্ধনের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী এই বাংলায় বাঙালির সভ্যতার ইতিহাস আড়াই থেকে তিন হাজার বছরের পুরোনো। পক্ষান্তরে, এই অঞ্চলের উপজাতিদের ইতিহাস ৩০০-৩৫০ বছরের বেশি নয়, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০-এর ৫২ ধারাতেও স্পষ্ট। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য কোটি কোটি বাঙালিকে নিজ ভূমিতে ‘পরবাসী’ বা ‘ভূমিদস্যু’ বানানোর এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা।

পিসিসিপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ডেপুটি স্পিকারের এই অদূরদর্শী বক্তব্যকে পার্বত্য অঞ্চলের উগ্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপগুলো ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘স্টেট রেফারেন্স’ বা রাষ্ট্রীয় দলিল হিসেবে প্রচার করছে।

“জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের ৩, ৪, ২৬ ও ৩০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো জনগোষ্ঠী ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি পেলে তারা স্ব-নির্ধারণের অধিকার, স্বায়ত্তশাসন এবং ঐতিহ্যগত ভূমির মালিকানার নামে দেশের এক-দশমাংশ (পার্বত্য অঞ্চল) থেকে দেশের মূল জনগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারে বাধ্য করার আইনি ভিত্তি পেয়ে যায়। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য প্রকারান্তরে স্বাধীন ‘জুম্মল্যান্ড’ বা ‘খ্রিস্টান কুকি ল্যান্ড’ গঠনের আন্তর্জাতিক নীল-নকশাকে সহায়তা করার শামিল।”

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) সরকারের কাছে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে:

১. জাতীয় সংসদের পবিত্র কার্যবিবরণী থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই অসাংবিধানিক ও বিপজ্জনক বক্তব্য অতিবিলম্বে এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করতে হবে।

২. ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার স্বার্থে সরকারের সকল স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এই ধরণের অসাংবিধানিক শব্দ প্রয়োগ থেকে বিরত রাখতে কঠোর আইনি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের মানচিত্রকে খণ্ড-বিখণ্ড করার এবং শান্ত পার্বত্য অঞ্চলসহ সমতলের শান্তি বিনষ্ট করার কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র দেশের ছাত্র ও পার্বত্যবাসী মেনে নেবে না। অবিলম্বে এই অসাংবিধানিক বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এর ফলে পাহাড়ের পরিস্থিতি যদি খারাপ হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকেই বহন করতে হবে।

আরো পড়ুন→সবসময় শ্রমিকদের পাশে আছি ও থাকব’: নবনির্বাচিত মাইক্রোবাস শ্রমিক নেতাদের কে এস মং

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কায়সার কামালের অসাংবিধানিক ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রয়োগে পিসিসিপি’র তীব্র প্রতিবাদ

সবসময় শ্রমিকদের পাশে আছি ও থাকব’: নবনির্বাচিত মাইক্রোবাস শ্রমিক নেতাদের কে এস মং

বিচিত্র ধরণী,অসীম তৃষ্ণা

জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার মনোনীত হলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ওসি মোজাম্মেল হক

বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে সভাপতি বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর

নাইক্ষ্যংছড়িতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

রোয়াংছড়িতে ১৫৫ জনের মাঝে ল্যাট্রিন সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ

মুখোশের আড়ালে

রুমায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খনন পরিদর্শনে সহকারী সচিব

১০

অধ্যাপক এম. জহির আহমেদের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের শ্রদ্ধাঞ্জলি

১১

বান্দরবানে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

১২

কুয়াকাটায় রাখাইনদের ভূমি সংকট: নাগরিক প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শন

১৩

কাঠ পাচারকারী চক্রের আস্তানা পলি রেঞ্জ, মাসোহারায় ‘ম্যানেজ’ রেঞ্জার

১৪

পাহাড়ের বাতিঘর:কে এস মং

১৫

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে বান্দরবানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন

১৬

নাইক্ষ্যংছড়িতে কৌশলে ইয়াবা পাচারকালে যুবক আটক

১৭

কাপ্তাই হ্রদে গোসলে নেমে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

১৮

নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, জলাবদ্ধতা নিরসন-কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

১৯

বান্দরবান সদরের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি জলিল সওদাগর আর নেই

২০
error: Content is protected !!