Logo
বাংলাদেশ[bangla_day] , [english_date]
  1. অনিয়ম
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন শৃঙ্খলা
  6. আইন-আদালত
  7. আওয়ামীলীগ
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আলীকদম
  10. ইতিহাস ও গল্প

৩ পার্বত্য জেলার পাহাড়ি নাগরিক সমাজের বিবৃতি: পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগে আপত্তি

পাহাড়কন্ঠ ডেস্ক
আপডেট : February 25, 2026
Link Copied!

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন অ-পাহাড়ী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নন—এমন ব্যক্তিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি নাগরিক সমাজের ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

সোমবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন-কে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ জন্য তারা দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান-কে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে বিবৃতিদাতারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (ঘ) খণ্ডের ১৯ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হবে। সেখানে অ-পাহাড়ী কাউকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা চুক্তির পরিপন্থী।

তারা আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পাহাড়ের আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের একজন ব্যক্তিকে নির্বাহী দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা এই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে পাহাড়ি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে চুক্তির মূল প্রস্তাবনা—“পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল”—বাস্তবায়নের প্রতিফলন নেই বলে তারা দাবি করেন। বিষয়টি বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’র “সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা (রেইনবো নেশন)” ধারণার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়।

এমতাবস্থায় বিবৃতিদাতারা নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর কাছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে পাহাড়ি আদিবাসী নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের পক্ষে বক্তব্যে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার। এতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবাদিক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, লেখক, শিল্পী ও সমাজকর্মীরা স্বাক্ষর করেন।