নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মার্চ ২০২৫, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৫৩৬০ জন

মগকক্রী ঝিড়ির পানি বিদ্যামনি পাড়াবাসীর একমাত্র ভরসা

Copy Link

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বিদ্যামনি পাড়া, যেখানে বসবাস করেন মারমা, ত্রিপুরা, খুমি, চাকমা ও বাঙালি পরিবারের সদস্যরা, তাদের জীবনে একটি চরম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপেয় পানির অভাব। এখানে, সলিনা ত্রিপুরা, রেসমতি ত্রিপুরা ও গুগাতি ত্রিপুরা এই তিন গৃহিণী প্রতিদিন পানির জন্য প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে উঁচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে মগকক্রী ঝিড়ির শাখা, মরা ঝিড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ঝিড়ির পাথরের গর্ত থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি সংগ্রহই একমাত্র ভরসা। এক কলসি পানি সংগ্রহ করতে তাদের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় বের করতে হয়। শুধু সুপেয় পানি নয়, নিত্যব্যবহার্য পানি পাওয়াও তাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ।

বিদ্যামনি পাড়া, যেখানে ৭০টি পরিবারের বসবাস, এটি একটি সম্প্রীতি গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এখানে মারমা, ত্রিপুরা, খুমি, চাকমা ও বাঙালি পরিবারের সদস্যরা একত্রে বসবাস করছেন। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে। সলিনা, রেসমতি ও গুগাতি ত্রিপুরা জানান, তারা সকালবেলা পানি সংগ্রহ করতে পারেন না, কারণ অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। বিকালে, তাদের জুমের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন রান্নার জন্য পানি নেই, ফলে আবার তাদের যেতে হয় পানি সংগ্রহ করতে।

গুগাতি ত্রিপুরা জানান, ঝিড়ির ক্ষুদ্র একটি উৎস থেকে বাঁশের খোল বসিয়ে পানির ফোঁটা ফোঁটা সংগ্রহ করতে হয়। এক কলসি পানি পূর্ণ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। এই পানি দিয়েই তাদের রান্না, গোসল এবং গৃহস্থালির সব কাজ করতে হয়।

২০১৫ সালে একটি এনজিও সংস্থা গ্রামবাসীদের জন্য মগকক্রী ঝিড়ির শাখা থেকে গ্রাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) পাইপের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় ব্যবস্থা স্থাপন করে। কিন্তু ২০২৩ সালে, মৌজা হেডম্যানের অনুমতিক্রমে কিছু গ্রামবাসী ওই স্থানে জুম চাষ শুরু করেন এবং গাছ কেটে পানির উৎসের ক্ষতি করে। এতে গ্রাভিটি ফ্লো সিস্টেম নষ্ট হয়ে যায় এবং পানির অভাব ফিরে আসে।

বিদ্যামনি পাড়ার প্রধান যাদুরাম ত্রিপুরা জানান, ২০২৩ সালে একটি এনজিও সংস্থা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য শ্রমিক এসেছিল, কিন্তু কাজটির প্রায় অর্ধেক অংশ করার পর তারা কাজ বন্ধ করে চলে যায়।

উপজেলার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা জানান, গ্রামবাসীরা যদি তাদের নিকট আবেদন জানায় এবং সরকারের রাজস্ব খাতে ১০ হাজার টাকা জমা দেয়, তবে গভীর নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে তিনি বলেন, তিনি দুইটি উপজেলার দায়িত্বে আছেন এবং সব জায়গায় নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আরো পড়ুন→থানচিতে বিশ্ব পানি দিবস পালন

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা বাড়লো ১০ আগস্ট পর্যন্ত

নাইক্ষ্যংছড়িতে বাদ পড়া শিশুদের হামের টিকা প্রদান

চোরাচালান ও মাদক নির্মূল প্রতিরোধ সমন্বিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে: ইউএনও নাইক্ষ্যংছড়ি

কাপ্তাই হ্রদে ফিরেছে জলরাশি, প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাঙামাটির প্রকৃতি

অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি ও অতিবৃষ্টিতে বেহাল বান্দরবান পৌর এলাকার সড়কগুলো

আলীকদম সদর ইউপির আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পেলেন কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা

পাহাড়ে স্বাস্থ্য-সেবার সংকট, হাসপতালের পথে প্রাণ হারালো ৭ মাসের শিশু আদর্শ চাকমা

বান্দরবানে জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশের সড়ক নির্মাণে নয়ছয়ের অভিযোগ

এই প্রথম বান্দরবানে আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কনসার্ট ১৬ আগস্ট

প্রথমবারের মতো রাঙ্গামাটি আসছেন সৈয়দ মোহাম্মদ মোকাররম বারী

১০

রাঙ্গামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বাবা-মা

১১

লায়ন্সে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করা রোগীদের ফলোআপ ক্যাম্প ৩ আগস্ট

১২

বান্দরবানে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত ৪০ পরিবারকে অর্থ সহায়তা প্রদান

১৩

চোখের আলো হারাতে বসা মানুষের পাশে কে এস মং, তিন হাজার রোগী পেয়েছেন ফ্রি চিকিৎসা

১৪

রুমায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক মাসে প্রাণ হারালো ৫ শিশু

১৫

বান্দরবান পৌরসভার বর্জ্য এখন কৃষি জমিতে

১৬

বান্দরবানে হ্যান্ডমেড জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘আঁচল’ নিয়ে এগোচ্ছেন নাঈমা

১৭

মানবিক সেবার জন্যে সম্মাননা পেল রাঙ্গামাটি হিল সার্ভিস পরিবার

১৮

২৭ বিজিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আরবি ক্যালিগ্রাফি স্মারক উপহার

১৯

বাংলা ভাষা-সাহিত্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র অবদান অনস্বীকার্য: জিয়া হাবীব আহসান

২০
error: Content is protected !!